বসিরহাটের পরিযায়ী শ্রমিককে হরিয়ানায় বাংলাদেশি তকমা দিয়ে আটক করার অভিযোগ, পরিবারে চরম উদ্বেগ

পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটের এক পরিযায়ী শ্রমিককে হরিয়ানায় শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে ১৫ দিন ধরে আটক করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ৫৫ বছর বয়সী গফ্ফর মণ্ডল নামে ওই শ্রমিকের পরিবার চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে। এই ঘটনায় পরিবারটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে।
গফ্ফর মণ্ডল উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। প্রায় ১৫ দিন আগে তিনি কাজের সন্ধানে হরিয়ানা গিয়েছিলেন। তার পরিবারের দাবি, গত ১১ আগস্ট রাতে গফ্ফর তার স্ত্রী মনোয়ারা বিবিকে ফোন করে জানান যে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে এবং বাংলা ভাষা বলার কারণে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে এবং তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
গফ্ফরের স্ত্রী মনোয়ারা বিবি বলেন, “আমাদের কাছে সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র, যেমন ভোটার, আধার এবং প্যান কার্ড রয়েছে। কিন্তু হরিয়ানার পুলিশ সেগুলো মানতে চায়নি। তিনি একমাত্র রোজগেরে, এবং তার ছোট ছোট বাচ্চা রয়েছে। আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।” তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে দ্রুত তার স্বামীকে ফিরিয়ে আনার জন্য আবেদন জানান।
গফ্ফরের দাদা মোস্তফা মণ্ডলও মুখ্যমন্ত্রীকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ভাইকে শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে আটকে রাখা হয়েছে। আমরা বসিরহাট থানায় অভিযোগ করেছি।”
এ বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরের প্রতিনিধি ইলিয়াস সরদার বলেন, “গফ্ফর মণ্ডলের সমস্ত কাগজপত্র জোগাড় করে আমরা প্রশাসনিকভাবে তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।” বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার হোসেন মেহেদি রহমান জানিয়েছেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা হরিয়ানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করছি এবং তার সমস্ত নথিপত্র পাঠাচ্ছি। আশা করছি, দ্রুত তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।”