মানুষের মৃত্যুর পর কী হয়? কোমা থেকে ফিরে বিশ্বকে চমকে দিলেন মহিলা, গোপন কথা করলেন ফাঁস…!

সাধারণত মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে আসা মানুষেরা উজ্জ্বল আলো বা স্বর্গের দরজার গল্প বলেন। কিন্তু ইংল্যান্ডের কেন্টের বাসিন্দা নিকোলা হজগাস নামে ৩২ বছর বয়সী এক মহিলা এই প্রচলিত ধারণাকে ভেঙে দিয়েছেন। নিয়মিত মৃগী রোগের ওষুধ খাওয়ার সময় রক্তে বিষক্রিয়ার কারণে তার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে যায় এবং তিনি কোমায় চলে যান। চিকিৎসকরা তার বাঁচার সম্ভাবনা মাত্র ২০ শতাংশ বলে জানান। এই অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কাছাকাছি গিয়ে যা অনুভব করেছিলেন, তা প্রচলিত গল্পের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

মৃত্যুর অভিজ্ঞতা এবং জীবন পরিবর্তনকারী দুর্ঘটনা
কোমা থেকে বেরিয়ে আসার পর নিকোলা বলেন, “আমি কিছুই দেখতে পাইনি, কেবল একটি ক্ষীণ উষ্ণতা এবং একটি হলুদ আলো।” এই দুর্ঘটনার ছয় মাস পর তিনি আবার স্ট্রোকের শিকার হন এবং সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। এর ফলে তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয় এবং তার জীবন চিরতরে বদলে যায়। এই দুর্ঘটনার পর তিনি এক কানে বধির হয়ে যান এবং নিজেকে অন্যদের থেকে অনেক দূরে মনে করতেন। তিনি জানান, “আমি প্রথমে খুব তীক্ষ্ণ ছিলাম, কিন্তু তারপর থেকে কিছু মনে করতে পারি না।”

এই সব সমস্যার সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে হতাশ হয়ে ৪০ বছর বয়সের আগেই কী কী করতে চান তার একটি তালিকা তৈরি করেন নিকোলা।

মস্তিষ্কের আঘাত জয় করে লেখক হয়ে ওঠা
তার তালিকার শীর্ষে ছিল নিজের মস্তিষ্কের আঘাতকে পরাজিত করে একটি বই লেখা। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে তিনি একটি পুরোনো ল্যাপটপ এবং একটি লাল নোটবুকের সাহায্যে লেখা শুরু করেন। তিনি বলেন, “আমি নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, আপনি এটি করতে পারবেন না, কিন্তু আমি চেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

প্রথম খসড়াটি শেষ করে তিনি তার বাবাকে দেখান, যিনি তার লেখা পড়ে উৎসাহ দেন। এরপর নিকোলা আট মাস ধরে বিভিন্ন প্রকাশককে লেখা পাঠাতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত তিনি একটি ইন্ডি প্রকাশনা সংস্থা ‘মর্নিং মিস্ট’-এর সঙ্গে পাঁচটি বই প্রকাশের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন।

আজ, ৩৭ বছর বয়সী নিকোলা সেপ্টেম্বরে তার দ্বিতীয় বই প্রকাশ করতে চলেছেন। তিনি এখন টিকটকে “ক্রেজিস ক্রিয়েটিভ কর্নার” নামে একটি লেখকদের গ্রুপ চালান, যেখানে তিনি তার মতো একই ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা মানসিক সমস্যায় থাকা অন্যান্য লেখকদের সাহায্য করেন।