‘ডিটেনশন বন্ধ হবে না!’ বাংলাভাষী শ্রমিকদের মামলায় স্পষ্ট রায় সুপ্রিম কোর্টের

বাংলাভাষী শ্রমিকদের বাংলাদেশি সন্দেহে হেনস্থা করা হচ্ছে, এই অভিযোগ নিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই শুনানি হয়, কিন্তু আদালত ডিটেনশন ক্যাম্পের ওপর কোনো অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে রাজি হয়নি।

কেন মামলা করা হয়েছে?
গত কয়েক মাসে পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থা করার অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে। আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, যিনি ওয়েস্ট বেঙ্গল মাইগ্রান্ট ওয়েলফেয়ার বোর্ডের পক্ষে সওয়াল করছিলেন, তিনি বলেন যে শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে শ্রমিকদের দিল্লি, হরিয়ানা, ওড়িশা, রাজস্থানসহ বিভিন্ন রাজ্যে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা সার্কুলারের ভিত্তিতেই এমনটা হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
সব অভিযোগ শোনার পর সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, এমন একটি ব্যবস্থা থাকা উচিত যাতে বৈধ নাগরিকদের কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়। তবে আদালত ডিটেনশন ক্যাম্পের ওপর স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করে। বেঞ্চের মতে, যদি সত্যি কেউ অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে, তাহলে তাদের আটক করা না হলে তারা সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে যাবে।

আদালত আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণকে জানায় যে এই বিষয়ে ওড়িশা, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, বিহার, উত্তর প্রদেশ, ছত্তিসগঢ়, হরিয়ানা, দিল্লি এবং পশ্চিমবঙ্গের কাছে তাদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে। শীর্ষ আদালত এই উত্তরগুলোর জন্য অপেক্ষা করার কথা বলে। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, যেকোনো রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের থাকার জায়গা সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার অধিকার রয়েছে। আদালত জানায়, কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি হলে যারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং যাদের আইন অনুযায়ী ভারত থেকে ফেরত পাঠানো দরকার, তাদের চিহ্নিত করতে সমস্যা হতে পারে।

এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে ১০ রাজ্যের হলফনামা এবং কেন্দ্রের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।