“২১ তারিখের মধ্যে কার্যকর হবে…?’”-দিল্লিতে EC-র মুখোমুখি হয়ে যা বললেন বাংলার মুখ্যসচিব

ভুয়ো ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে রাজ্যের ৪ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সহ মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে সাসপেনশন কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের নির্দেশে আগামী ২১ আগস্টের মধ্যে এই পদক্ষেপ নিতে হবে বলে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ বুধবার দিল্লিতে কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে জানিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত সোমবার নির্বাচন কমিশন রাজ্যের ৪ জন কর্মকর্তাকে সাসপেন্ড করার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হয় এবং কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, কমিশন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে বুধবার বিকেল ৫টার মধ্যে দিল্লিতে তলব করে। কমিশনের এই কড়া অবস্থানের পর মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ দিল্লি গিয়ে কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন এবং নির্দেশ পালনের প্রতিশ্রুতি দেন।

ভুয়ো ভোটারের অভিযোগ:

নির্বাচন কমিশনের অভিযোগ, ওই কর্মকর্তারা ‘ইআরও’ (ERO) এবং ‘এইআরও’ (AERO) হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় ভোটার তালিকায় বিপুল সংখ্যক ভুয়ো ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এই কর্মকর্তাদের মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার ইআরও ও এইআরও-রা রয়েছেন। কমিশন এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের এবং তাদের সাসপেন্ড করার সুপারিশ করেছিল।

বৈঠকের পর মুখ্যসচিবের প্রতিশ্রুতি:

বুধবার বিকেল ৪টার দিকে কমিশনে পৌঁছে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে তিনি কমিশনকে নিশ্চিত করেন যে, আগামী ২১ আগস্টের মধ্যেই কমিশনের নির্দেশ কার্যকর করা হবে। যদিও এখনো পর্যন্ত রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিরোধী দলগুলো এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা মনে করছে, এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা ফিরে আসবে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের এই তৎপরতা এবং রাজ্য সরকারের প্রতিশ্রুতি রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।