চৈতন্য মহাপ্রভুর হাতেও ছিল…! শ্রীখোল তৈরি করেই মাসে অধিক টাকা আয় করছে এই শিল্পী

আধুনিক প্রযুক্তির দাপটে যখন অনেক ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র হারিয়ে যাচ্ছে, তখন মালদহের এক শিল্পী প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র শ্রীখোল তৈরি করে শুধু ঐতিহ্যই বাঁচিয়ে রাখছেন না, বরং মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জনও করছেন। মালদহের অমৃতি সিকান্দরপুর এলাকার বাসিন্দা কার্তিক দাস গত ৩০ বছর ধরে শ্রীখোল তৈরি এবং বিক্রি করে মাসে প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করছেন।

শ্রীখোল তৈরির প্রক্রিয়া
কার্তিক দাস জানান, নদিয়া থেকে আনা কাঠ বা মাটির পাত্র ব্যবহার করে শ্রীখোল তৈরি করা হয়। পাত্রের ওপর ছাগল বা গরুর চামড়া এবং চামড়ার ফিতে ও সুতো দিয়ে এটি বেঁধে দেওয়া হয়। একটি শ্রীখোল তৈরি করতে প্রায় দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে। অর্ডার অনুযায়ী তিনি প্রতি মাসে ১৫ থেকে ১৬টি শ্রীখোল তৈরি করেন। একটি শ্রীখোলের দাম তিন হাজার থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

ডিজিটাল যুগেও শ্রীখোলের ব্যাপক চাহিদা
কার্তিক দাস বলেন, যান্ত্রিক বাদ্যযন্ত্রের তুলনায় হাতে তৈরি শ্রীখোল আজও তার নিজস্ব জায়গা ধরে রেখেছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, হরিনাম সংকীর্তন এবং অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এর চাহিদা ব্যাপক। বহু লোকসংগীত শিল্পী এই বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে থাকেন, ফলে শ্রীখোল প্রস্তুতকারকদের প্রয়োজনীয়তা এখনও অনেক। আধুনিকতার প্রভাব সত্ত্বেও শ্রীখোলের চাহিদা এখনও অটুট।