দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের ইলেকট্রিক মিস্ত্রির বাড়িতে চোর, সিধ কাটা নিয়ে ঘনাচ্ছে রহস্য

পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল থানার নাটশাল-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব শ্রীরামপুরে এক রাতেই তিনটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের ইলেকট্রিক মিস্ত্রি পুলক বারুইয়ের বাড়িতেও চুরির অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাতে এই ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে একই পাড়ায় তিনটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের ইলেকট্রিক মিস্ত্রি পুলক বারুই কর্মসূত্রে দিঘায় ছিলেন এবং তার স্ত্রী আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে দুষ্কৃতীরা চালের টালির টালি খুলে ভেতরে ঢোকে। তারা ইলেকট্রিকের সরঞ্জামসহ অন্যান্য জিনিসপত্র এবং প্রায় এক লক্ষাধিক টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।

একই রাতে, একই এলাকার বাসিন্দা রঘুনাথ কামিলা এবং ইন্দ্রনারায়ণ বিজলির বাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটে। রঘুনাথ কামিলার বাড়িতে দুষ্কৃতীরা মন্দিরের তালা ভেঙে মনসা, লক্ষ্মী, গণেশ মূর্তি, সোনার গয়না এবং পিতলের জিনিসপত্র চুরি করে। এর পাশাপাশি কয়েক হাজার টাকা নগদও গায়েব হয়েছে বলে অভিযোগ। এই তিনটি চুরির ঘটনায় মোট লক্ষাধিক টাকার জিনিসপত্র ও অর্থ খোয়া গেছে বলে জানা গেছে।

গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ
আজ সকালে বাড়ির মালিকেরা ঘটনাটি জানতে পেরে পুলিশে খবর দেন। মহিষাদল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। রঘুনাথ কামিলা এই ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন এবং দ্রুত দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

মহিষাদল থানার অফিসার ইনচার্জ নাড়ুগোপাল বিশ্বাস জানান, এখনও পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ জমা পড়লে তদন্ত আরও দ্রুত শুরু হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি পূর্ব শ্রীরামপুরের পাশের গ্রাম অমৃতবেড়িয়াতে চুরি করতে এসে এক ব্যক্তি গণপিটুনিতে মারা গিয়েছিলেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এই নতুন চুরির ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আরও বেশি শোরগোল সৃষ্টি করেছে।