চোর ভেবে ধাওয়া, সিনেমার স্টাইলে অস্ত্র–সহ পাকড়াও দুষ্কৃতী

শিয়ালদহ স্টেশন সংলগ্ন কোর্ট এলাকায় পুলিশকে দেখে হঠাৎ দৌড়, আর তাতেই প্রকাশ পেল এক দুষ্কৃতীর আগ্নেয়াস্ত্র লুকানোর ঘটনা। বুধবার সকালে এক হোমগার্ড ও সিভিক ভলান্টিয়ারের তৎপরতায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিয়ালদহ কোর্ট চত্বর, যা সাধারণত সকাল থেকে ভিড়ে ঠাসা থাকে এবং মোবাইল চুরির জন্য পরিচিত, সেখানেই ঘটেছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
পুলিশকে দেখে পালানোর চেষ্টা:
সকালে ওই এলাকায় নিয়মিত ডিউটিতে ছিলেন হোমগার্ড সুজিত এবং এক সিভিক ভলান্টিয়ার। সেই সময় পঙ্কজ বিশ্বাস ওরফে মিষ্টি নামের এক যুবককে পুলিশ দেখে হঠাৎ দৌড়াতে শুরু করে। শিয়ালদহ চত্বরে মোবাইল চুরির ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক হওয়ায়, সুজিত এবং তার সহকর্মী তাকে মোবাইল চোর ভেবে তাড়া করেন। তাকে ধরে ফেলতেই সুজিতের সন্দেহ হয়, কারণ যুবকের টি-শার্টের নিচে কিছু লুকানো আছে বলে মনে হয়।
তল্লাশিতে মিলল আগ্নেয়াস্ত্র:
তাকে ধরে তল্লাশি চালাতেই দেখা যায়, কোমরে একটি আগ্নেয়াস্ত্র গোঁজা রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ট্র্যাফিক সার্জেন্ট হিরণ্ময় সরকারকে বিষয়টি জানানো হয়। সার্জেন্ট এসে ওই যুবককে আটক করেন এবং পরবর্তীতে এন্টালি থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এন্টালি থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে অসংলগ্ন উত্তর ও পুরনো রেকর্ড:
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পঙ্কজ অসংলগ্ন কথা বলতে থাকে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত পঙ্কজ ট্যাংরার পটারি রোডের বাসিন্দা এবং তার বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা আগ্নেয়াস্ত্রটি অবশ্য অকেজো ছিল। তবে কেন সে সকালে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল, তার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই সাহসিকতা ও সতর্কতার জন্য কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে ফেসবুক পেজে ওই তিন পুলিশকর্মীর ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। তাদের তৎপরতায় একটি সম্ভাব্য বড় অপরাধের ঘটনা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।