ভারতে বাড়ছে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সংখ্যা, তবে রয়ে গেছে কিছু বাধা

ভারতে সম্প্রতি অঙ্গ প্রতিস্থাপনের হার, বিশেষ করে হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৯০-এর দশকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়াটি কোভিড-১৯ মহামারীর আগে পর্যন্ত বছরে মাত্র ২৫০টি অপারেশনে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি, লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অঙ্গদানের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের কারণে এই চিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। ফোর্টিস হাসপাতালের কার্ডিও থোরাসিক ভাস্কুলার সার্জারির পরিচালক, চিকিৎসক কায়াপান্ডা মুথানা মান্দানা এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

চিকিৎসক কায়াপান্ডা বলেন, “একজন ব্রেন ডেড দাতার হৃদপিণ্ড এবং ফুসফুস তিনজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। সংবাদমাধ্যম এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে এই বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে, যা দেশের অঙ্গ প্রতিস্থাপনের চিত্রকে বদলে দিচ্ছে।”

তবে অঙ্গদানের অগ্রগতি হলেও এখনও কিছু বাধা রয়ে গেছে। এর মধ্যে প্রধান হলো দ্রুত ব্রেন ডেথ নির্ণয় এবং পরিবারকে তা জানানো। অনেক সময় অঙ্গদানের ধারণা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়, যা পরিবারকে সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাগ্রস্ত করে। চিকিৎসক বলেন, “এক্ষেত্রে সহানুভূতি এবং স্বচ্ছতার সাথে পরিবারের পাশে দাঁড়ানো অপরিহার্য।”

World Organ Donation Day 2025-এর থিম “Responding to the Call” বা “আহ্বানে সাড়া দিন” সম্পর্কে তিনি বলেন, এই থিমটি অঙ্গদানকে উৎসাহিত করার সম্মিলিত দায়িত্বকে তুলে ধরে। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ মানুষ—সবারই একসঙ্গে কাজ করা উচিত অঙ্গদানের হার বাড়ানোর জন্য। তিনি আরও বলেন, “দাতা পরিবারগুলোর উদারতাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সম্মান জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের এই সাহসিকতাই অন্যদের জীবন দান করে।”

চিকিৎসক কায়াপান্ডার মতে, এই বছরের বার্তাটি স্পষ্ট—অঙ্গদানের হার বাড়াতে, বাধা দূর করতে এবং প্রতিটি মহৎ কাজকে সম্মান জানাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।