আমেরিকা কি পাকিস্তানে পরমাণু অস্ত্র রেখেছে, ভারতকে কিসের দমে হুমকি দিচ্ছে মুনির?

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক পারমাণবিক হুমকি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেছেন, যদি পাকিস্তান কোনো হুমকির মুখে পড়ে, তবে তারা তাদের পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করে ‘অর্ধেক বিশ্ব’ ধ্বংস করে দেবে, যা কেবল ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মুনিরের এই দাবি কতটা বাস্তবসম্মত এবং এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সমর্থন আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পাকিস্তানের হাতে প্রায় ১৭০টি পরমাণু অস্ত্র থাকার অনুমান করা হচ্ছে। আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশন এবং আইসিএএন-এর মতো সংস্থাগুলো এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। যদিও এই সংখ্যা ভারতের (১৭২টি) কাছাকাছি, তবে বিশ্ব মঞ্চে এটি খুবই নগণ্য। রাশিয়া (৫,৫৮০), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (৫,০৪৪) এবং চীনের (৫০০) মতো পরাশক্তির তুলনায় পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি যৎসামান্য।
মুনিরের বক্তব্যের পর অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন যে, আমেরিকার পরমাণু অস্ত্র কি পাকিস্তানে রাখা আছে, যার ভিত্তিতে তিনি এত বড় কথা বলছেন? এই প্রশ্নের উত্তর হলো, ‘না’। আমেরিকার কোনো পরমাণু অস্ত্র পাকিস্তানে রাখা নেই। আমেরিকা তার পরমাণু অস্ত্র ইউরোপের ন্যাটো জোটভুক্ত কিছু দেশ যেমন বেলজিয়াম, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং তুরস্কে রেখেছে। সেগুলোর নিয়ন্ত্রণও সম্পূর্ণরূপে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।
পাকিস্তান তার পারমাণবিক অস্ত্রগুলো আলাদাভাবে এবং সুরক্ষিত স্থানে সংরক্ষণ করে। সেগুলো ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো বাহন থেকে দূরে রাখা হয় এবং প্রয়োজন হলেই কেবল মোতায়েন করা হয়। পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশ বরাবরই উদ্বেগে থাকে। বিশেষ করে, ভুল হাতে অস্ত্র পড়ার ঝুঁকি নিয়ে তারা চিন্তিত। পাকিস্তান তার অস্ত্রে উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (HEU) ব্যবহার করে, যা তাদের আরও অস্ত্র তৈরিতে সাহায্য করতে পারে।
পাকিস্তানের প্রধান ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পাল্লা ভারতের মধ্যে এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশে সীমাবদ্ধ। যেমন শাহিন-৩ (২৭৫০ কিমি), আবাবিল (২২০০ কিমি) এবং বাবর-৩ (৪৫০ কিমি)। নাসর ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা মাত্র ৭০ কিমি। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বিবেচনা করলে ‘অর্ধেক বিশ্ব ধ্বংস’-এর হুমকি অনেকটাই অতিরঞ্জিত মনে হয়। ১৯৯৮ সালের পরীক্ষায় পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের শক্তি ছিল ১২-৪০ কিলোটন, তবে এখন তা আরও বেশি হতে পারে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মুনিরের এই ধরনের হুমকি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এবং ভারতের সঙ্গে চলমান উত্তেজনারই প্রতিফলন। তার এই বক্তব্য আমেরিকার শক্তি বা সমর্থনের ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের মানুষের কাছে নিজের সামরিক সক্ষমতা তুলে ধরার একটি কৌশল।