এসপ্ল্যানেড-শিয়ালদা মেট্রো চালু হবে চলতি মাসেই, জেনেনিন কবে শুরু হবে পরিষেবা?

অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কলকাতার মেট্রো পরিষেবা নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো করিডরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ শিয়ালদা-এসপ্ল্যানেড রুটের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। রেল সূত্রে খবর, আগামী ২২শে আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই রুটের উদ্বোধন করতে পারেন। এর মাধ্যমে সল্টলেক থেকে হাওড়া ময়দান পর্যন্ত যাত্রাপথ অনেকটাই সহজ এবং দ্রুত হবে।
এই প্রকল্পের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এগুলো হলো—ইস্ট-ওয়েস্ট করিডরের এসপ্ল্যানেড-শিয়ালদা, হলুদ লাইনের নোয়াপাড়া-জয় হিন্দ বিমানবন্দর এবং অরেঞ্জ লাইনের রুবি-বেলেঘাটা।
প্রস্তুতি সম্পন্ন, এবার শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা
শিয়ালদা এবং এসপ্ল্যানেডের মধ্যে ২.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশের কাজ গত এপ্রিল মাসেই শেষ হয়েছে এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা কমিশনারের অনুমোদনও মিলেছে। এই অংশটি চালু হলে হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ১৬.৬ কিলোমিটার করিডর জুড়ে যাত্রী চলাচল সম্ভব হবে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাওড়া থেকে সল্টলেক পর্যন্ত একমুখী যাত্রায় প্রায় ৩৫ মিনিট সময় লাগবে। শুধু তাই নয়, হাওড়া ও শিয়ালদার মধ্যে সময় লাগবে মাত্র ১২ মিনিট, যা নিত্যযাত্রীদের জন্য এক দারুণ স্বস্তির খবর।
উন্নত প্রযুক্তি ও পরিষেবা
ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো আধুনিক যোগাযোগ-ভিত্তিক ট্রেন নিয়ন্ত্রণ (CBTC) প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যা ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা ও দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। প্রাথমিকভাবে ব্যস্ত সময়ে প্রতি ৮ মিনিট অন্তর এবং সাধারণ সময়ে প্রতি ১০ মিনিট অন্তর ট্রেন চলবে। ভবিষ্যতে অটোমেটিক ট্রেন অপারেশনস (ATO) সিস্টেম চালু হলে যাত্রার সময় আরও ৫-৭ মিনিট কমে যাবে এবং ফ্রিকোয়েন্সিও বাড়ানো সম্ভব হবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও চ্যালেঞ্জ
এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল অনেক আগে, কিন্তু ২০১৯ সাল থেকে জল লিকেজ এবং মাটি ধসের মতো একাধিক সমস্যার কারণে কাজ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে করিডরের দুটি অংশ—সেক্টর ৫ থেকে শিয়ালদা এবং হাওড়া ময়দান থেকে এসপ্ল্যানেড—আলাদাভাবে চালু রয়েছে। নতুন অংশটি চালু হলে শহরের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত সরাসরি মেট্রো লাইনের মাধ্যমে যুক্ত হবে, যা কলকাতার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
২২শে আগস্টের উদ্বোধনের পর পরই পুরোদমে যাত্রী পরিষেবা শুরু হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে শুধু সল্টলেকবাসীই নয়, কলকাতার অন্যান্য প্রান্তের মানুষও দ্রুত এবং আরামদায়ক ভ্রমণের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।