তৃণমূল নেতা খুনে গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত নাসিম শেখ, ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হলো ৩

বাঁকুড়ার সোনামুখী থানা এলাকায় তৃণমূল নেতা সেকেন্দার খাঁ খুনের ঘটনায় অবশেষে মূল অভিযুক্ত নাসিম শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে পুরুলিয়ার মানবাজার থানা এলাকা থেকে তাকে পাকড়াও করা হয়। এই ঘটনায় এ নিয়ে মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে তৃণমূল নেতা সেকেন্দার খাঁ খুন হওয়ার পর থেকেই নাসিম শেখ পলাতক ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোনামুখী থানার পুলিশ পুরুলিয়ায় তার এক বন্ধুর বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। সোনামুখী থানার পুলিশ তাকে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এর আগে এই খুনের ঘটনায় নাসিম শেখের দুই ছেলে হাসিম শেখ ও ইব্রাহিম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং আদালত তাদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই খুনের পেছনে দীর্ঘদিনের পুরনো শত্রুতা থাকতে পারে। প্রায় ছয় মাস আগে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে নাসিম শেখকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনায় সেকেন্দার খাঁ-র বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল এবং তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর নাসিম শেখ তার অনুগামীদের নিয়ে সেকেন্দারকে খুনের পরিকল্পনা করে থাকতে পারে বলে পুলিশ সন্দেহ করছে। তবে খুনের আসল কারণ ও ষড়যন্ত্রের বিষয়ে নিশ্চিত হতে নাসিমকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সোনামুখী থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন) মাকসুদ হাসান জানিয়েছেন, “এখন পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক শত্রুতার জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।”

প্রসঙ্গত, সোনামুখীর চকাই গ্রামে বাইকে করে বাড়ি ফেরার পথে দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত হন তৃণমূল নেতা সেকেন্দার খাঁ। ময়না তদন্তের রিপোর্টে জানা গেছে, তাঁর শরীরে তিনটি গুলির চিহ্ন রয়েছে, যার মধ্যে দুটি বুলেট উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই খুনের ঘটনায় সোনামুখীর রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মূল অভিযুক্তের গ্রেপ্তারের পর এই মামলার তদন্ত নতুন মোড় নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।