বুধে কমল পেট্রোলের দাম! ডিজেলের দাম কত হল জানেন?

পেট্রোল ও ডিজেলের দাম সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম থেকে শুরু করে পরিবহন খরচ, সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে জ্বালানির মূল্য। আজ, বুধবার পর্যন্ত দেশের বড় শহরগুলিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে বিশেষ কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলির ওপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে।
কলকাতায় জ্বালানির দাম
কলকাতায় আজ লিটার প্রতি পেট্রোলের দাম ₹১০৫.৪১ এবং ডিজেলের দাম ₹৯২.০২। দীর্ঘদিন ধরে পেট্রোলের দাম ₹১০০-এর উপরে থাকায় সাধারণ মানুষের বাজেটে চাপ বাড়ছে। ডিজেলের দাম কিছুটা কম হলেও পরিবহন খরচের কারণে বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দিল্লিতে জ্বালানির দাম
দেশের রাজধানী দিল্লিতে জ্বালানির দাম তুলনামূলকভাবে কম। এখানে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ₹৯৪.৭৭ এবং ডিজেলের দাম ₹৮৯.৯৭। কেন্দ্রীয় কর কম থাকায় দিল্লির আশেপাশে থাকা রাজ্যগুলির ট্রাক চালকরা প্রায়শই দিল্লিতে তেল ভরতে আসেন, যা এখানকার দামের সুবিধা প্রমাণ করে।
মুম্বইয়ের জ্বালানির দাম
ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বইতে পেট্রোলের দাম ₹১০৩.৫০ প্রতি লিটার এবং ডিজেলের দাম ₹৯০.০৩। মহারাষ্ট্রে করের হার বেশি হওয়ায় মুম্বইতে পেট্রোলের দাম এখনো যথেষ্ট উচ্চ। ডিজেলের দাম দিল্লির চেয়ে বেশি হলেও, এটি পরিবহন এবং ট্যাক্সি পরিষেবাগুলিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
চেন্নাই এবং বেঙ্গালুরুর দাম
দক্ষিণের শহর চেন্নাইতে পেট্রোলের দাম ₹১০০.৮০ এবং ডিজেলের দাম ₹৯২.৩৯। অন্যদিকে, প্রযুক্তিনগরী বেঙ্গালুরুতে পেট্রোলের দাম ₹১০২.৯২ এবং ডিজেলের দাম ₹৯২.৩৯। উভয় শহরেই রাজ্য করের ওপর ভিত্তি করে দাম কিছুটা বেশি, তবে গত কয়েক মাস ধরে এই দামগুলি মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।
সাধারণ মানুষের উদ্বেগ এবং বিশেষজ্ঞদের মত
পেট্রোল ও ডিজেলের উচ্চমূল্যের কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে, যার ফলস্বরূপ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়ছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলি এই কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে পাবলিক ট্রান্সপোর্টের ওপর নির্ভরশীল হচ্ছেন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে না কমলে বা কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার করের হার না কমালে এই পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা নেই। বরং বিশ্বব্যাপী ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং চাহিদা-সরবরাহের ভারসাম্যহীনতার ওপর নির্ভর করে দামের ওঠানামা চলতে থাকবে।
সব মিলিয়ে, পুজোর মরসুমের আগে সাধারণ মানুষ আশা করছেন, যদি তেলের দাম কিছুটা কমে তাহলে বাজার এবং তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।