প্রথমবারের ভোটারের বয়স ১২৪ বছর! হতবাক হয়ে মিনতা দেবী বললেন, ‘আমাকে ঠাকুমা….’

বিহারের ভোটার তালিকায় একের পর এক ভুল নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। এবার এক ৩৫ বছর বয়সী মহিলাকে ১২৪ বছরের বৃদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় হতবাক ওই মহিলা নিজেকে “ঠাকুমা” বানিয়ে দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে দুষছেন।
ওই মহিলার নাম মিনতা দেবী। বিহারের সিওয়ান জেলার দারুন্ডা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার হিসেবে তিনি নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। কিন্তু খসড়া ভোটার তালিকায় তাঁর জন্মসাল ১৯০০ সাল লেখা হয়েছে, যার ফলে তাঁর বয়স দাঁড়িয়েছে ১২৪ বছর। মিনতা দেবী বলেন, “৩৫ বছর বয়সে ভোটার হওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। এর আগে বহুবার আবেদন করেও নাম ওঠেনি। এবার যখন নাম উঠল, তখন কমিশন আমাকে ঠাকুমা বানিয়ে দিল। আমার জন্মসাল ১৯৯০, যা সব নথিতে আছে। কিন্তু তালিকায় তা ১৯০০ লেখা হয়েছে।” এই ঘটনায় তিনি অত্যন্ত হতাশ।
যদিও স্থানীয় প্রশাসন এই ভুলটি স্বীকার করে নিয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মিনতা দেবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিরোধীরা সংসদের বাইরে ধর্নায় বসেছে। সোমবার এসআইআর ইস্যুতে কমিশন ঘেরাও কর্মসূচির পর মঙ্গলবারও এই বিষয়ে সরব হয় বিরোধীরা। ধর্নায় কংগ্রেস সাংসদদের টি-শার্টে মিনতা দেবীর ছবি ও নাম ছাপা ছিল, এবং পেছনে লেখা ছিল ‘১২৪ নট আউট’।
কংগ্রেস সাংসদ মানিকম ঠাকুর বলেন, “নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতা স্পষ্ট। রাজীব কুমারের নেতৃত্বে কমিশন এখন বিজেপির দপ্তরে পরিণত হয়েছে। মিনতা দেবীর মতো প্রথমবার ভোটারের বয়স ১২৪ বছর দেখানো তারই উদাহরণ। আমরা এই বিষয়ে আলোচনা চাই।” তিনি আরও বলেন, “বিহারের খসড়া ভোটার তালিকা জাল ভোটারের ভরা। তারই প্রতিবাদে এই টি-শার্ট।” এই ঘটনায় বিহারের ভোটার তালিকা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।