OMG! গর্ভেই মৃত যমজ ভ্রূণের পাশে তিন মাস কাটিয়ে পৃথিবীর আলো দেখল সদ্যোজাত, অবাক সকলে!

চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক বিরল ঘটনা ঘটল নদিয়ার কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে। ‘পেপার ভ্রূণ’ বা ‘ফেটাল প্যাপিরাসিয়স’-এর মতো এক আশ্চর্যজনক অবস্থার সফল অস্ত্রোপচার করে এক সদ্যোজাতকে বাঁচিয়ে তোলা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, প্রায় এক লক্ষ ডেলিভারির মধ্যে এমন ঘটনা একবার দেখা যায়, যেখানে যমজ সন্তানের মধ্যে একটি গর্ভেই মারা গেলেও অন্যটি সুস্থভাবে বেঁচে থাকে।

নবদ্বীপের বাসিন্দা, পেশায় বিএসএফ জওয়ান ওই মহিলার চিকিৎসা এখন জেএনএম হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগে চলছে। গত ১০ আগস্ট প্রায় এক ঘণ্টার সফল অস্ত্রোপচারের পর নবজাতক এবং মা দুজনেই সুস্থ আছেন।

কী ঘটেছিল আসলে? কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ মৈনাক নাথের নেতৃত্বে এই অস্ত্রোপচার হয়। তিনি জানান, “যখন ওই রোগিনী ৬ মাসের গর্ভবতী ছিলেন, তখন পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় যে তাঁর গর্ভে থাকা যমজ সন্তানের মধ্যে একটির মৃত্যু হয়েছে। তবে অপরটি জীবিত ছিল।” এরপরই জীবিত ভ্রূণটিকে ‘সারভাইভ’ করানোর চেষ্টা শুরু হয়, যা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই প্রক্রিয়ায় গর্ভবতীর কিডনি ও লিভারে চাপ বাড়ছিল।

চিকিৎসক নাথ বলেন, “সমস্ত ঝুঁকি সত্ত্বেও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাই। অবশেষে ৯ মাস পর গত ১০ আগস্ট সিজারিয়ান পদ্ধতিতে ডেলিভারি করানো হয়।”

অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা এক অবাক করা দৃশ্য দেখেন। মৃত ভ্রূণটি দেখতে কাগজের মতো হয়ে গিয়েছিল। ডাক্তারি পরিভাষায় এটিকে ‘ফেটাল প্যাপিরাসিয়স’ বা ‘পেপার ভ্রূণ’ বলা হয়। এই অবস্থায় গর্ভে মৃত বাচ্চাটি অন্য ভ্রূণের চাপে কাগজের মতো পাতলা হয়ে যায়। চিকিৎসকরা এই ঘটনাকে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ বলে অভিহিত করেছেন।

এই সফল অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালের চিকিৎসকরা অত্যন্ত খুশি। অস্ত্রোপচার দলের সদস্য ছিলেন ডাঃ মৈনাক নাথ, ডাঃ সুলগ্না লালা, ডাঃ সঞ্চিতা বিশ্বাস, ডাঃ শ্রেষ্ঠা মুখোপাধ্যায় এবং অ্যানাস্থেসিয়ার ডাঃ রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস। তাঁদের পরামর্শ দেন ডাঃ অভিজিৎ হালদার ও ডাঃ সব্যসাচী সরকার। বর্তমানে নবজাতক ও মা দুজনেই স্থিতিশীল আছেন এবং কন্যা সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় আছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, গর্ভে মৃত যমজের পাশে থেকে পৃথিবীর আলো দেখার এই চ্যালেঞ্জ যারা নিতে পারে, সে সত্যিই এক ‘অগ্নিকন্যা’।