নবান্ন অভিযানে হিংসার ঘটনায় প্রথম গ্রেফতার, BJP নেতা অর্জুন সিংয়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ আটক!

গত ৯ আগস্ট আরজিকর হাসপাতালের নিহত তরুণীর জন্য ন্যায়বিচারের দাবিতে বিজেপির ডাকা ‘নবান্ন অভিযানে’ পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় প্রথম গ্রেফতার করা হয়েছে। নিউমার্কেট থানার পুলিশ উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলের বাসিন্দা চন্দন গুপ্তকে বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট এবং বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটের সংযোগস্থল থেকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত চন্দন গুপ্ত বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের ঘনিষ্ঠ এবং ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে ডিসি এসএসডি বিদিশা কলিতার গার্ডকে মারধরের ঘটনায় তার সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

পুলিশের উপর হামলা: মারধর ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ
৯ আগস্ট আরজিকরের নিহত তরুণীর বাবা-মায়ের আহ্বানে এই অভিযানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীসহ বিজেপি কর্মীরা দলীয় পতাকা ছাড়াই অংশ নেন। মিছিলটি পার্ক স্ট্রিটের কাছে পৌঁছালে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময় অভিযুক্ত চন্দন গুপ্ত পুলিশের উপর হামলা চালায়। ডিসি এসএসডি বিদিশা কলিতা এবং কনস্টেবল প্রশান্ত পোদ্দারকে রাস্তায় ফেলে মারধর ও খুনের চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। নিউমার্কেট থানা এলাকায় এক পুলিশকর্মীর মাথায় ইটের আঘাত লাগে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আরও অনেক পুলিশকর্মী আহত হন।

শোকাহত তরুণীর বাবা-মা: মানসিক সুস্থতা নিয়ে চিকিৎসকের উদ্বেগ
এই ঘটনার পাশাপাশি, আরজিকরের নিহত তরুণীর বাবা-মায়ের মানসিক সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, এই শোকের কারণে তাদের মানসিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে ‘পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার’ বা পিটিএসডি-এর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এই রোগের উপসর্গ হিসেবে হঠাৎ চমকে ওঠা, আকস্মিক রাগে ফেটে পড়া, ঘুম ও খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়ম এবং মনোযোগের অভাব দেখা যায়।

রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি চিকিৎসকের বার্তা
চিকিৎসক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই রকম মানসিক অবস্থায় কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে তরুণীর বাবা-মাকে মিছিল-মিটিং-এ টেনে নিয়ে যাওয়া অমানবিক। তিনি রাজনৈতিক দলগুলিকে এই মুহূর্তে তাদের থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। তার মতে, বর্তমানে তাদের মেডিটেশন ও সাইকোথেরাপির প্রয়োজন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, এই দম্পতিকে আপাতত আন্দোলন থেকে সরিয়ে রাখা হোক এবং তাদের মানসিক শান্তির সুযোগ দেওয়া হোক।