ভাড়া বাড়ির গৃহকর্ত্রীকে ‘মা’ সাজিয়ে ভারতীয় ভোটার হওয়ার চেষ্টা! বাংলাদেশি মহিলা-ছেলের অবিশ্বাস্য কৌশল দেখে চমকে যাবেন

দেগঙ্গায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সামনে এসেছে এক বাংলাদেশী মহিলার ভারতীয় ভোটার তালিকায় নাম তোলার রহস্য। তিনি তার ভাড়া বাড়ির গৃহকর্ত্রীকে নিজের মা সাজিয়ে এই জালিয়াতি করেছেন। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তা ও ভোটার তালিকা প্রণয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে।
কীভাবে ফাঁস হলো এই জালিয়াতি?
দেগঙ্গা এক নম্বর পঞ্চায়েতের ১১৯ নম্বর বুথের ভোটার তালিকায় শেফালী মণ্ডলের নাম নথিভুক্ত হয়, যেখানে তার মায়ের নাম হিসেবে দেখানো হয় ঊষারাণী মণ্ডল। প্রকৃতপক্ষে, শেফালী মণ্ডল একজন বাংলাদেশী নাগরিক যিনি ভারতে এসে বেলিয়াঘাটা এলাকার বাসিন্দা ঊষারাণী মণ্ডলের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। এখানেই তিনি তার ছেলেকে নিয়ে আসেন এবং দু’জনেই একই কৌশলে ভারতীয় ভোটার তালিকায় নাম তোলেন।
প্রাথমিকভাবে শেফালী মণ্ডল এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও, পরে ঊষারাণী মণ্ডলের ছেলে নির্মল মণ্ডল আসল ঘটনা ফাঁস করে দেন। নির্মল জানান, শেফালী তাদের কেউ নন, তিনি কেবল তাদের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন এবং তার মাকে ‘ধর্ম মা’ হিসেবে সম্বোধন করতেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেফালী ঊষারাণীকে নিজের মা হিসেবে উপস্থাপন করে ভোটার হন।
শেফালী মণ্ডলের স্বীকারোক্তি
উত্তর ২৪ পরগনার এই ঘটনায় চাপের মুখে পড়ে শেফালী মণ্ডল শেষ পর্যন্ত ক্যামেরার সামনে সব স্বীকার করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে তার মায়ের নামও ঊষারাণী মণ্ডল ছিল। কাকতালীয়ভাবে তার ভাড়া বাড়ির মালিকের নামও ঊষারাণী মণ্ডল। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সহায়তায় আদালতের মাধ্যমে এফিডেভিট তৈরি করে ভারতীয় ভোটার তালিকায় নাম তোলেন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই ঘটনা সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে দোষারোপের পালা।
বিজেপি: তাদের দাবি, শাসক দলের মদতেই এমন ঘটনা ঘটছে। তারা আরও অভিযোগ করে, বিজেপি সরকার যেখানে বাংলাদেশী হিন্দুদের শরণার্থী হিসেবে নাগরিকত্ব দিচ্ছে এবং মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানোর কথা বলছে, সেখানে শাসক দল এমন জালিয়াতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।
শাসক দল: শাসক দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই ধরনের অবৈধ ভোটার তালিকাভুক্তির ঘটনা বাম আমলের সময় থেকেই চলে আসছে। বিজেপি শুধু মিথ্যা সমালোচনা করছে।
এই ঘটনার ফলে রাজ্যের নিরাপত্তা এবং ভোটার তালিকা প্রণয়ন ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।