স্থলপথে বাংলাদেশি পণ্যে নিষেধাজ্ঞা, ইউনূস প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়াল ভারত

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে এবার আরও কঠোর পদক্ষেপ নিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। সম্প্রতি ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রকের অধীনস্থ ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (DGFT) একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, পাট এবং পাটজাতীয় পণ্য যেমন দড়ি ও বস্তা স্থলপথে আর ভারতে প্রবেশ করতে পারবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এক নতুন সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।

আগেও ছিল নিষেধাজ্ঞা, এবার নতুন সংযোজন:

গত বছর আগস্টে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার পর মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশে হিন্দু সহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় ভারত বারবার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও, ইউনূস প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ। এরপর থেকেই বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ভারতের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়। গত এপ্রিল মাস থেকে একাধিক বাংলাদেশি পণ্য আমদানিতে ভারত লাগাতার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। মে মাসে ট্রান্সশিপমেন্ট পরিষেবা ব্যবহার করে ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি পণ্য রফতানির সুবিধা বন্ধ করে দেয় নয়াদিল্লি।

চীনা প্রীতি নিয়ে ভারতের অসন্তোষ:

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ হলো বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের চীন-প্রীতি। চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষের দিকে ইউনূস চীন সফর করেন এবং সেখানে ভারতের সমালোচনা করেন। ভারতের রাজনৈতিক মহল এই ঘটনাকে ভালো চোখে দেখছে না। একাধিক বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে ভারত যেন সেই অসন্তোষেরই প্রকাশ ঘটাচ্ছে।

নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে শুধুমাত্র মহারাষ্ট্রের নব সেবা সমুদ্রবন্দর দিয়েই বাংলাদেশি পণ্য আদানপ্রদান করা যাবে, যা স্থলপথের বাণিজ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। এই পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য পণ্য রফতানি আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভারত স্পষ্ট বার্তা দিল যে, তারা প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের কাছ থেকে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সম্মানজনক সম্পর্ক আশা করে। ইউনূস প্রশাসনের চীন ঘনিষ্ঠতা এবং ভারতের উদ্বেগ উপেক্ষা করার ফলে এই বাণিজ্যিক চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।