ভারত-চীন সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত, শিগগিরই শুরু হতে পারে সরাসরি বিমান পরিষেবা

ভারত ও চীনের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু হতে পারে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, আগামী মাস থেকেই এই পরিষেবা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২০ সালে করোনা অতিমারীর কারণে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং তারপর গালওয়ান উপত্যকায় সামরিক সংঘাতের জেরে সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছায়। এমন পরিস্থিতিতে বিমান পরিষেবা পুনরায় চালুর খবরটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আমেরিকার শুল্ক চাপ এবং নতুন সমীকরণ:
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক নতুন সমীকরণ দেখা যাচ্ছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে ভারত, চীন এবং রাশিয়ার মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বাতাবরণ তৈরি হচ্ছে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের ওপর ট্রাম্প সরকার যে অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছে, তার জেরে এই তিনটি দেশ নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত-চীন বিমান পরিষেবা চালুর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
সীমান্ত সংঘাতের পর প্রথম পদক্ষেপ:
২০২০ সালের জুন মাসে গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল, যেখানে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহীদ হন। এর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক শীতল ছিল। সীমান্তে চীনা আগ্রাসন নিয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় চীনের অস্বাভাবিক সেনা মোতায়েন রয়েছে। তবে এত কিছুর মধ্যেই গত বছরের অক্টোবর মাসে BRICS সম্মেলনে মোদী এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হয়।
এসসিও সম্মেলন এবং মোদীর সম্ভাব্য সফর:
আগামী ৩১শে আগস্ট থেকে ১লা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনের তিয়ানজিন শহরে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং চীন তাঁর সম্ভাব্য সফরকে স্বাগত জানিয়েছে। চীনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেছেন যে এটি এসসিও-র ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্মেলন হতে চলেছে এবং তিনি আশা করেন যে এই সম্মেলন সংহতি, বন্ধুত্ব এবং ফলপ্রসূ ফলাফল নিয়ে আসবে।
বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু করার জন্য ভারত সরকার ইতিমধ্যে এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগোর মতো সংস্থাগুলিকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গেছে। এই পদক্ষেপগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ভারত ও চীন তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে হাঁটছে। এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ ভবিষ্যতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।