কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আড়ালে জাল আধার কার্ড চক্র, দুই গ্রেফতারের পর শুরু রাজনৈতিক চাপানউতোর

কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আড়ালে চলছিল জাল আধার কার্ড তৈরির চক্র। এই অভিযোগে মালদহের চাঁচল ও হরিশ্চন্দ্রপুর থেকে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম মোস্তফা আব্দুল ওয়াহেদ এবং মহম্মদ আজম ওরফে নবাব। এই ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে চাঁচল থানার পুলিশ মোস্তফা আব্দুল ওয়াহেদকে সতী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের মূল মাস্টারমাইন্ড মহম্মদ আজম ওরফে নবাবকে হরিশ্চন্দ্রপুরের কুশিদার উত্তর রামপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা উত্তর রামপুরে একটি সিএসপি এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালাতেন। কিন্তু তার আড়ালে তারা জাল আধার কার্ড তৈরির কাজ করত। দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি চালানোর পর সূত্র মারফত খবর পেয়ে পুলিশ এই দুইজনকে জালে তোলে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি অভিযোগ তুলেছে যে, বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা জাল আধার কার্ড তৈরি করে রাজ্যে ঘাঁটি গাড়ছে এবং এর পিছনে তৃণমূলের মদত রয়েছে। মালদহ জেলা বিজেপি সম্পাদক রুপেশ আগরওয়াল বলেন, “আধার কার্ড কেন, সবই তো জাল হচ্ছে এখানে। এভাবেই তো জাল আধার কার্ড বানিয়ে রোহিঙ্গারা ভারতীয় হয়েছে।”

অন্যদিকে, তৃণমূল এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। আইএনটিটিইউসি-র ব্লক সভাপতি সাহেব দাস বলেন, “দু’জন গ্রেফতার হয়েছে। এখানেই বোঝা যাচ্ছে, আমাদের রাজ্যের পুলিশ যথেষ্ট সক্রিয়। যদি রোহিঙ্গা ভারতে ঢোকে, তাহলে দায় কেন্দ্রীয় সরকারের।”

ধৃত মহম্মদ আজমের ভাই অবশ্য দাবি করেছেন যে, তাঁর দাদা এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি বলেন, “আমাদের বাড়িতে জাহাঙ্গির নামে এক ছেলে ভাড়া থাকত, সে-ই এই কাজ করত। পুলিশ জাহাঙ্গিরকে না পেয়ে দাদাকে তুলে নিয়ে গেছে।” এই ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং পুলিশ খতিয়ে দেখছে, কারা এই জাল আধার কার্ড তৈরি করিয়েছিল এবং কী উদ্দেশ্যে তা করা হয়েছিল।