বাণিজ্য শুল্কের উত্তেজনা কমতেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী!

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য শুল্কের বিরতি আরও ৯০ দিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক তেলের বাজারে। মঙ্গলবার তেলের দাম সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ দুই দেশের মধ্যে একটি বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তেলের দাম বৃদ্ধি
মঙ্গলবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের ফিউচার মূল্য ০.৩৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৬৬.৮৯ ডলারে লেনদেন হয়েছে। একই সময়ে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের মূল্য ০.৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৬৪.১৮ ডলারে পৌঁছেছে।

শুল্ক বিরতিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ঘোষণা করেছেন যে, চীনের সঙ্গে শুল্ক বিরতি আরও নব্বই দিন বাড়ানো হবে। এর ফলে চীন থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর নতুন করে শুল্ক আরোপ আপাতত স্থগিত থাকছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পদক্ষেপ বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনৈতিক শক্তির মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা কমিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে।

ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকে নজর
বাণিজ্য উত্তেজনার বাইরে, এখন সবকিছুর নজর আগামী ১৫ আগস্ট আলাস্কায় অনুষ্ঠিত হতে চলা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের দিকে। এই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এএনজেড ব্যাংকের সিনিয়র পণ্য কৌশলবিদ ড্যানিয়েল হাইনস বলেন, “রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে যেকোনো শান্তিচুক্তি রুশ তেলের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটার ঝুঁকি দূর করবে, যা গত কয়েক মাস ধরে বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছিল।” এই বৈঠকের পর রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলোর উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি হবে কিনা, তা পরিষ্কার হবে।

এছাড়াও, বিনিয়োগকারীরা আজ প্রকাশিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ মুদ্রাস্ফীতির তথ্যের দিকে নজর রাখছেন। এই তথ্য থেকে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে, যা তেলের দামের উপর প্রভাব ফেলবে।