পথকুকুরদের সরিয়ে ফেলার নির্দেশে অখুশি রাহুল-মেনকা, কী বলছেন?

দিল্লি ও লাগোয়া ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিওন (NCR) থেকে সমস্ত পথকুকুর সরিয়ে ফেলার জন্য সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সোমবার এই নির্দেশ জারি হওয়ার পর মঙ্গলবার এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং বিজেপি নেত্রী মেনকা গান্ধী।
রাহুল গান্ধীর প্রতিক্রিয়া: “অদূরদর্শী এবং করুণার অভাব”
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের সমালোচনা করে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত দেশের মানবতা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক নীতি থেকে পিছিয়ে যাওয়ার শামিল। তাঁর মতে, পথকুকুর কোনো সমস্যা নয় যে তাদের একেবারে সরিয়ে ফেলতে হবে।
রাহুল গান্ধী একটি এক্স বার্তায় বলেন, “খোঁয়াড় তৈরি, নির্বীজকরণ, ভ্যাকসিন দেওয়া এবং সামাজিক সুরক্ষাই পথঘাটকে সুরক্ষিত রাখতে পারে। এটা কোনো নৃশংসতা ছাড়াই সম্ভব। কিন্তু কুকুরদের সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে ফেলার পদক্ষেপটি হিংস্র, অদূরদর্শী এবং করুণার অভাবকেই তুলে ধরে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, জননিরাপত্তা এবং প্রাণিকল্যাণ একসাথে চলতে পারে।
মেনকা গান্ধীর সমালোচনা: “রাগ থেকে আসা সিদ্ধান্ত”
রাহুলের কাকিমা এবং পশুপ্রেমী হিসেবে পরিচিত বিজেপি নেত্রী মেনকা গান্ধীও সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের সমালোচনা করেছেন। তিনি এই রায়কে ‘আশ্চর্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন যে, এটি সেইসব মানুষের সিদ্ধান্ত, যাদের কুকুরের উপর প্রবল রাগ আছে।
তিনি আরও যুক্তি দেন, দিল্লিতে প্রায় ৩ লক্ষ পথকুকুর রয়েছে। এত সংখ্যক কুকুরকে রাখার জন্য আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করতে ১৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে এবং ৩,০০০ জায়গা প্রয়োজন হবে। এত জায়গা এবং টাকা কোথা থেকে আসবে, সেই প্রশ্নও তিনি তুলেছেন। এছাড়াও, মেনকা গান্ধী মনে করেন যে, পথকুকুর ধরতে গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে প্রায়শই সংঘর্ষ বাধবে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলবে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ
সোমবার বিচারপতি জে.বি. পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর. মাধবনের বেঞ্চ দিল্লি ও এনসিআর-এর পৌর কর্তৃপক্ষকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত পথকুকুর ধরে নির্বীজকরণ করার এবং স্থায়ীভাবে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। আদালত সতর্ক করে বলেছে, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন এই কাজে বাধা দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালত জোর দিয়ে জানিয়েছে যে, রাস্তাঘাটকে পথকুকুর মুক্ত করার কাজে কোনো আপস করা হবে না।