ঠিক যেন চিত্রগুপ্ত! ৫০ বছর ধরে লিখে চলেছেন মানুষের পাপ-পুণ্যের হিসেব, কে সে? চিনেনিন আপনিও

অনেকেরই অনেক অদ্ভুত শখ থাকে। কেউ ডাকটিকিট সংগ্রহ করেন, কেউ মুদ্রা বা অটোগ্রাফ। কিন্তু বীরভূমের মল্লারপুরের বাসিন্দা কৃষ্ণেন্দু সিংহের শখটি একেবারেই অন্যরকম। তিনি মানুষের মৃত্যুর দিনক্ষণ ও কারণ লিখে রাখেন। দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে এই শখ চালিয়ে আসছেন তিনি, আর এখন তাঁর এই কাজ এলাকার ৯টি গ্রামের মানুষের কাছে এক অপরিহার্য তথ্যভাণ্ডার হয়ে উঠেছে।

ময়ূরেশ্বর থানার ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষ্ণেন্দু সিংহ, যিনি সকলের কাছে ‘কেষ্টদা’ নামে পরিচিত। তাঁর বাবা কালীপদ সিং ছিলেন একজন ইতিহাসের শিক্ষক। তিনি সব সময় নিজের পকেটে একটি নোটবুক রাখতেন, যেখানে দৈনন্দিন জীবনের ঘটনা লিখে রাখতেন। বাবার কাছ থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে কেষ্টদা ডায়েরি লেখা শুরু করেন। প্রথমে তিনি সাধারণ ঘটনা এবং পরিচিত মানুষের খবর লিখে রাখতেন।

১৯৭৫ সাল থেকে তাঁর শখের বিষয়বস্তু বদলে যায়। মৃত্যু তার কাছে এক নতুন আকর্ষণ তৈরি করে। সেই সময় থেকে তিনি স্থানীয় মানুষের মৃত্যুর কারণ এবং দিনক্ষণ লিখে রাখতে শুরু করেন। বর্তমানে ৬৬ বছর বয়সী কৃষ্ণেন্দুর ডায়েরির পাতাগুলিতে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ ও তারিখ লিপিবদ্ধ আছে। গ্রামের লোকেরা তাকে ‘বাস্তবের চিত্রগুপ্ত’ নামে ডাকেন।

মল্লারপুরের ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের গোয়ার গ্রামের বাসিন্দা সাধন সিং জানান, কয়েক বছর আগে তার বাবার মৃত্যুর পর তিনি ডেথ সার্টিফিকেট বের করতে গিয়ে বিপদে পড়েন, কারণ মৃত্যুর সঠিক তারিখ তার জানা ছিল না। এরপর কৃষ্ণেন্দুবাবুর কাছে গিয়ে তিনি সেই তারিখটি জানতে পারেন। একই ভাবে, ময়ূরেশ্বর এক নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ধীরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ও তার খুব কাছের একজনের ডেথ সার্টিফিকেট বের করতে কৃষ্ণেন্দুবাবুর সাহায্য নিয়েছেন।

কৃষ্ণেন্দুবাবু জানান, “প্রথম দিকে বাবার কাছ থেকে শেখার পর এটি শখে পরিণত হয়। এখন এটা নেশার মতো। শুধু মল্লারপুর ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েত নয়, আশেপাশের কয়েকটি গ্রামেও কার মৃত্যু হচ্ছে, সেই খবর রাখতেই আমাকে প্রায়ই খাতা-পেন নিয়ে বের হতে হয়। মৃত্যুর কারণও আমি খতিয়ে দেখে ডায়েরিতে লিখে রাখি।” তাঁর এই বিচিত্র শখ আজ বহু মানুষের উপকারে আসছে, যা তাঁকে স্থানীয়দের কাছে এক বিশেষ পরিচিতি এনে দিয়েছে।