ক’য়েকদিন আগেই গিয়েছিলেন মমতা, ভেঙে পড়ল আরামবাগের রামকৃষ্ণ সেতুর একাংশ

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিদর্শনের কয়েক দিনের মধ্যেই হুগলির আরামবাগে দ্বারকেশ্বর নদের উপর নির্মিত রামকৃষ্ণ সেতুর একাংশের রেলিং ভেঙে পড়ায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল রাত ১২টা ১৫ মিনিট নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা এবং বিরোধীরা।

রামকৃষ্ণ সেতুটি হুগলি জেলার সঙ্গে বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, পুরুলিয়া-সহ মোট পাঁচটি জেলার যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। রেলিং ভেঙে যাওয়ার পরেও সেতুর উপর দিয়ে বিপজ্জনকভাবে যান চলাচল করতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আরামবাগ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা ভাঙা অংশটি ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দেয় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, যদি দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু না করা হয়, তবে সেতুটির কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে। এতে জেলার সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সেতুর অবস্থার অবনতি ঘটছিল বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তাঁরা একটি নতুন বিকল্প সেতু নির্মাণ অথবা বর্তমান সেতুটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

এই ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন আরামবাগের বিজেপি বিধায়ক মধুসূদন বাগ। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আসবেন বলে তড়িঘড়ি এই রাস্তায় জোড়াতাপ্পি দিয়ে কাজ চালানো হয়েছিল, কিন্তু তার আসল চিত্র আজ প্রকাশ্যে এসেছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আরামবাগের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নতুন একটি সেতুর দাবি জানিয়ে এলেও রাজ্য সরকার কেবল প্রহসন করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি বন্যাকবলিত খানাকুল এবং আরামবাগ পরিদর্শন করে ঘাটালের উদ্দেশ্যে এই সেতুটি ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর সফরের পরপরই এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটায় রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা তুঙ্গে। প্রশাসন এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।