স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করে আয়কর বাঁচানোর চেষ্টা,

অনেক ব্যক্তিই আয়কর বাঁচানোর জন্য নিজের উপার্জনের একটি অংশ স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা রাখেন। কিন্তু এই কৌশল কি সত্যিই আয়কর বাঁচানোর জন্য কার্যকরী? আয়কর আইন অনুযায়ী, এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে কর এড়ানো সম্ভব নয়।

আয়কর আইন অনুসারে, যদি স্বামী নিজের টাকা স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে জমা করেন এবং সেই টাকা ফিক্সড ডিপোজিট, শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা হয়, তাহলে সেখান থেকে প্রাপ্ত মুনাফা স্বামীর আয়ের সঙ্গেই যুক্ত হবে। এমনকি যদি স্ত্রীর কোনো আলাদা উপার্জন না থাকে, তবুও এই আয় থেকে প্রাপ্ত করের দায় স্বামীরই থাকবে। ফলে, এই উপায়ে আয়কর বাঁচানোর চেষ্টা করলে তা সফল হবে না।

তবে, কিছু ব্যতিক্রম আছে। যদি স্ত্রীকে স্বামীর সংস্থায় কর্মী হিসেবে দেখানো হয় এবং তাকে যথাযথভাবে বেতন দেওয়া হয়, তাহলে সেই বেতন তার আয় হিসাবে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে, কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী সমস্ত কাগজপত্র সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। কোনো পেপারওয়ার্ক ছাড়া অতিরিক্ত টাকা দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

আরেকটি ব্যতিক্রম হলো ‘স্ত্রীধন’ থেকে উপার্জিত অর্থ। স্ত্রীধন থেকে উপার্জিত আয় স্ত্রীর নিজস্ব আয় হিসাবে গণ্য হয়। কিন্তু স্বামীর থেকে প্রাপ্ত উপহার ‘স্ত্রীধন’ হিসেবে বিবেচিত হবে না।

এছাড়াও, যদি স্ত্রী সাংসারিক খরচ থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে সেই অর্থ বিনিয়োগ করে থাকেন, তাহলে সেই বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয় তার নিজস্ব আয় হিসেবে গণ্য হতে পারে। তবে, এক্ষেত্রে বাঁচানো টাকার পরিমাণ সাংসারিক খরচের তুলনায় অবশ্যই কম হতে হবে।

যদি স্বামী স্ত্রীকে ঋণ দেন, তবে সেই ঋণ থেকে প্রাপ্ত উপার্জনের ওপরও কিছু নিয়ম আছে। স্বামীকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে সুদ নিতে হবে এবং ঋণের আসল টাকা ফেরত নিতে হবে। তবে এর জন্যও নির্দিষ্ট কারণ এবং যথাযথ কাগজপত্র থাকা প্রয়োজন।

জয়েন্ট অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে, যদি শুধুমাত্র স্বামীর বেতন জমা হয়, তাহলে পুরো করের দায়ভার স্বামীরই থাকে। তবে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কর্মরত হলে, দুজনেই আলাদাভাবে কর জমা করবেন এবং পুরনো ট্যাক্স রেজিম অনুযায়ী দুজনেই আলাদাভাবে ট্যাক্স ডিডাকশনের সুবিধা নিতে পারবেন।