‘বেড নেই’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হল গুরুতর আহত যুবককে, এসএসকেএমে চরম অব্যবস্থা

পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সেরা হাসপাতাল এসএসকেএমে আবারও মানবিকতার চরম অবহেলার ছবি সামনে এলো। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক যুবক বেড না পেয়ে হাসপাতালের সামনে স্ট্রেচারে খোলা আকাশের নিচে পড়ে ছিলেন। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর টিভি নাইন বাংলায় খবরটি সম্প্রচারিত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে এবং যুবককে ভর্তির ব্যবস্থা করে। এই ঘটনা আবারও সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৪ জুলাই। গাড়িতে ধাক্কায় মাথায় গুরুতর আঘাত পান ১৮ বছরের যুবক সুব্রত দাস। ২৫ আগস্ট তাকে এসএসকেএমের ট্রমা কেয়ারে ভর্তি করা হয় এবং মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। ২৯ আগস্ট হাসপাতাল থেকে তাকে ছুটি দেওয়া হয়। কিন্তু বাড়িতে ফেরার পর তার অবস্থার অবনতি হতে থাকে। অস্ত্রোপচারের স্থান থেকে রস বের হতে শুরু করলে সে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে।

ছেলের এই অবস্থা দেখে রবিবার রাতে সুব্রতকে আবার এসএসকেএমে নিয়ে আসেন তার বাবা-মা। কিন্তু হাসপাতাল থেকে জানানো হয় কোনো বেড খালি নেই। এরপর থেকে অসহায় বাবা অমিত্য দাস এবং মা দেবী দাস তাদের ছেলেকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে স্ট্রেচারে পড়ে ছিলেন। সোমবার বিকেল পর্যন্ত এই অবস্থাতেই চলেছিল। বাবা অমিত্য দাস বলেন, “ওর ব্রেনের অপারেশন হয়েছে। রবিবার থেকে পড়ে আছে। হাসপাতাল থেকে বলছে বেড নেই।” মা দেবী দাসও অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, “একটা বেডের ব্যবস্থা করে দিন, নইলে আমার একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতে পারব না।”

টিভি নাইন বাংলার প্রতিনিধি সুব্রত দাস বিষয়টি জানতে পেরে তার বাবার সঙ্গে এমএসভিপি’র কার্যালয়ে যান এবং ভর্তির জন্য অনুরোধ জানান। এর পরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তৎপর হয় এবং সুব্রতকে দ্রুত ভর্তি করে নেয়। এই ঘটনাটি ২০২৩ সালে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে বেড না পেয়ে মেঘনাদ চন্দ্র নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।