‘ভুয়ো থানা’ খুলে প্রতারণা, বীরভূমে নকল পুলিশের পর্দা ফাঁস করল আসল পুলিশ

চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায়, নয়ডার বুকে ভুয়ো থানা খুলে প্রতারণার অভিযোগে বীরভূমের প্রাক্তন তৃণমূল নেতা বিভাস অধিকারী-সহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে একটি ফ্ল্যাটকে থানা হিসেবে সাজিয়ে ‘International Police & Crime Investigation Bureau’ নামে একটি সংস্থা চালাচ্ছিলেন তারা। এই ঘটনা সামনে আসার পর সোমবার নয়ডা পুলিশের তৎপরতায় প্রতারণার মূল চক্রটিকে ধরা হয়।
জানা গেছে, বিভাস অধিকারী গত এক মাস আগে নয়ডার একটি ফ্ল্যাটে (P294 CIT Road) মাসিক ভাড়া নিয়ে এই ভুয়ো থানা চালাচ্ছিলেন। স্থানীয়দের বয়ান অনুযায়ী, ওই ফ্ল্যাটে ১০-১২ জনের আনাগোনা ছিল, যাদের অনেকের কাছে বন্দুকও দেখা গেছে। বাড়ির বাইরে পুলিশের সাইনবোর্ড লাগানো ছিল এবং নীল বাতি লাগানো গাড়িও দাঁড়িয়ে থাকত। তবে পুলিশি অভিযানের পর সেই সাইনবোর্ডটি দ্রুত খুলে ফেলা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩০শে জুলাই বেলেঘাটা থানার পুলিশ একটি এনজিও-র মাধ্যমে এই ভুয়ো সংস্থার বিষয়ে জানতে পারে। এরপর পুলিশ সংস্থার প্রতিনিধিদের তলব করে এবং কাগজপত্র যাচাই করার পর ওই সাইনবোর্ডটি সরানোর নির্দেশ দেয়। তদন্তে জানা যায়, কোনো সংস্থা ‘Police’ শব্দ এবং নীল-লাল রঙের চিহ্ন ব্যবহার করতে পারে না, যা কেবল সরকার অনুমোদিত পুলিশি সংস্থাগুলোর জন্য সংরক্ষিত।
বিভাস অধিকারী এর আগেও বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের প্রতারণার চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে। গত বছর নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে তিনি মানিকতলার ২২০ বিবেকানন্দ রোডে একটি অফিস খোলার নাম করে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন। চলতি বছরের জুন মাসে তিনি সেই ফ্ল্যাট ছেড়ে দিয়ে ফুলবাগানের একটি ঠিকানায় ওঠেন। ফ্ল্যাটের মালিক জানান, বিভাস অধিকারী বন্দুকধারী নিরাপত্তারক্ষী এবং নীলবাতি লাগানো গাড়ি নিয়ে আসতেন, যা স্থানীয়দের কাছে আরও বেশি বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করেছিল।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত বিভাস অধিকারী-সহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চালাচ্ছে। এই প্রতারণার পেছনে আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।