নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ, অনড় রাহুল গান্ধী

ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। এই আবহে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সোমবার এই ইস্যুতে উত্তাল হয় সংসদের উভয় কক্ষ। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে। এসবের মাঝেই সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের অভিযোগের পক্ষে অনড় থাকার কথা জানালেন রাহুল গান্ধী।

সম্প্রতি রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছিলেন যে, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে প্রায় ১,০০,২৫০ টি ভোট ‘চুরি’ হয়েছে। তিনি দেশের শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে গণতন্ত্রের ভোট ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার গুরুতর অভিযোগ তোলেন। এর প্রেক্ষিতে কর্ণাটকের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক রাহুল গান্ধীকে তাঁর অভিযোগের সমর্থনে শপথপত্রসহ ভোটার তালিকা কমিশনে জমা দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন।

সোমবার সাংবাদিকদের এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে রাহুল গান্ধী বলেন, “আমি কেন শপথপত্র সই করব? এটা তাদের (নির্বাচন কমিশনের) তথ্য, আমার নয়। তারা নিজেরাই নিজেদের ওয়েবসাইট থেকে তথ্য যাচাই করে দেখতে পারে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন এই অনুরোধের মাধ্যমে আসলে মূল বিষয় থেকে মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করছে।

কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, “আপনারা ভাববেন না এটা শুধু বেঙ্গালুরুতে হয়েছে। এই ধরনের ঘটনা আরও বহু কেন্দ্রে ঘটেছে। নির্বাচন কমিশন এখন সবকিছু লুকোনোর চেষ্টা করছে, কিন্তু একদিন সবটা সামনে চলে আসবে।”

উল্লেখ্য, রাহুল গান্ধীর অভিযোগের পর কর্ণাটকের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক তাঁকে ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধিমালার ২০(৩)(খ) বিধি অনুসারে সংযুক্ত ঘোষণাপত্র/শপথপত্রে স্বাক্ষর করে এবং কথিত অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ভোটারদের তালিকা জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু রাহুল গান্ধী তা করতে অস্বীকার করে এই বিষয়টিকে নির্বাচন কমিশনেরই দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন।