চাকরিহারা শিক্ষকদের জন্য বড় পদক্ষেপ, পুরনো সরকারি চাকরিতে ফিরছেন ২০ জন!

২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলার জেরে চাকরি হারানো শিক্ষকদের জন্য এক বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। প্রথম দফায় ২০ জন প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে তাঁদের পূর্ববর্তী সরকারি দফতরে পুনর্বহাল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে নবান্ন। এই সিদ্ধান্ত হাজার হাজার চাকরিহারা পরিবারের জন্য এক নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে।
আবেদনের প্রক্রিয়া ও পুনর্বহালের কারণ
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যে ২০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে পুনর্বহাল করা হচ্ছে, তারা শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেওয়ার আগে বিভিন্ন সরকারি দফতরে কর্মরত ছিলেন। শিক্ষকতার চাকরি পাওয়ার পর তারা আগের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। কিন্তু আদালতের রায়ে তাদের শিক্ষকতার চাকরি বাতিল হয়ে যাওয়ায় তারা নতুন করে বিপাকে পড়েন। মানবিক কারণে এবং তাদের অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার তাদের পুরনো দফতরে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, এই ২০ জনের মধ্যে ৫ জন স্বরাষ্ট্র দফতরের কর্মী ছিলেন, এবং বিদ্যুৎ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের একাধিক কর্মীও রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে দ্রুত পুনর্বহালের কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আশার আলো
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ৪,৫০০-এরও বেশি চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকা তাঁদের পুরনো চাকরিতে ফেরার জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন। প্রতিটি আবেদন নবান্নের মানবসম্পদ ও আইন দফতর দ্বারা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে যাদের নথি ও চাকরির রেকর্ড স্পষ্ট, তাদের পুনর্বহাল করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে অন্তত অর্ধেক আবেদন মঞ্জুর করা, যা বহু পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
শিক্ষা মহলের একাংশ এই পদক্ষেপকে ‘মানবিক ও বাস্তবসম্মত’ বলে মনে করছেন। অন্যদিকে, শিক্ষক সংগঠনগুলি দাবি করেছে যে, শুধু পুরনো সরকারি চাকরি থাকা ব্যক্তিরাই নয়, যাদের বিকল্প কোনো চাকরি নেই, তাদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সরকারের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষক নিয়োগ বিতর্কে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য একটি ইতিবাচক সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।