উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফার পর ‘নিখোঁজ’ ধনকড়, কোথায় আছেন তিনি? উত্তর জানতে চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রাউতের চিঠি!

উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না সদ্য পদত্যাগী উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়কে (Jagdip Dhankar)। তার এই ‘নিখোঁজ’ হয়ে যাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র জল্পনা। এই পরিস্থিতিতে শিবসেনা (ইউটিবি)-র নেতা সঞ্জয় রাউত (Sanjay Raut) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে একটি চিঠি লিখে তার অবস্থান এবং সুস্থতা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।
ইস্তফার পর থেকেই নিরুদ্দেশ
গত ২১ জুলাই উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন জগদীপ ধনকড় (Jagdip Dhankar)। পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর নির্বাচন কমিশন নতুন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন ঘোষণা করলেও, ধনকড়কে এরপর থেকে আর কোনো অনুষ্ঠানে বা জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তিনি তার রাজস্থানের চুরুর বাড়িতে আছেন কিনা, বা উপরাষ্ট্রপতির সরকারি বাংলোয় আছেন কিনা, তা নিয়েও কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই। তার পদত্যাগের পর সরকার তাকে কোনো প্রথাগত বিদায় সংবর্ধনাও জানায়নি, যা এই রহস্যকে আরও গভীর করেছে।
বিরোধীদের দাবি: গৃহবন্দী ধনকড়?
সঞ্জয় রাউত তার চিঠিতে অমিত শাহকে (Amit Shah) দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি লিখেছেন, “আমরা সাংসদেরা শুনতে পাচ্ছি যে সদ্য পদত্যাগী উপরাষ্ট্রপতিকে তার সরকারি বাংলোয় আটকে রাখা হয়েছে।” রাউত আরও উল্লেখ করেছেন, যদি তার অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না দেওয়া হয়, তাহলে তারা আদালতে ‘হেবিয়াস কর্পাস’ মামলা দায়ের করার কথা ভাবছেন। যদিও এই ধরনের মামলা করতে গেলে নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করতে হয়, কিন্তু এখনও পর্যন্ত ধনকড়ের পরিবারের কেউ এমন কোনো অভিযোগ করেননি।
রাজ্যসভাতেও এই বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে। সমাজবাদী পার্টি সমর্থিত নির্দল সাংসদ ও আইনজীবী কপিল সিব্বল সরকারের কাছে জানতে চেয়েছেন, ধনকড় কোথায় এবং কী অবস্থায় আছেন।
ধনকড় কেন পদত্যাগ করলেন তা নিয়েও জল্পনা ছড়িয়েছে। অনেকে মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিরোধের জেরেই তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো মেলেনি।