থরে থরে সাজানো ৫০০ টাকার বান্ডিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকর্তার বাড়ি থেকে উদ্ধার টাকার পাহাড়!

আয়কর বিভাগের অভিযানে জয়পুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রুপ ডিরেক্টর সন্দীপ বকসীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো ১০ কোটি টাকা। তাঁর বাড়ির বেসমেন্টে থরে থরে সাজানো ৫০০ টাকার বান্ডিল দেখে হতবাক হয়ে যান আয়কর কর্মকর্তারা। তাঁদের অনুমান, এটি মোট টাকার অর্ধেক। বাকি বিপুল পরিমাণ অর্থ আগেই পাচার করে দেওয়া হয়েছে।

হিসাব বহির্ভূত আয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে সন্দীপ বকসীর একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি অভিযান চালায় আয়কর দফতর। এই তল্লাশির সময়েই তাঁর বাড়ির বেসমেন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা উদ্ধার হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই টাকা মূলত অস্বচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি, ডোনেশন এবং বিপুল পরিমাণ নগদ লেনদেনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর আগে গত ৩০শে জুলাইও তদন্তকারী সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিল।

আয়কর বিভাগের তদন্তে উঠে এসেছে যে সন্দীপ বকসী অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন আমলাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু কর্তব্যরত ও প্রাক্তন আমলা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা বিনিয়োগ করেছেন। জয়পুরে তাঁর একাধিক স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ রয়েছে।

আয়কর বিভাগের কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, অভিযানের আগেই গ্রুপ ডিরেক্টরের কর্মীরা ১৫টি ব্যাগ ভর্তি নগদ অর্থ সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনটি বড় গাড়িতে করে সেই টাকা নিয়ে গিয়ে মাটির নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজে কর্মীদের নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে আয়কর বিভাগ এই ১০ কোটি টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

এই তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন আইআরএস অফিসার সিদ্ধার্থ গুপ্ত। এই বিপুল অঙ্কের কালো টাকা উদ্ধারের ঘটনায় জয়পুরের শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আয়কর বিভাগ এখন বাকি পাচার হয়ে যাওয়া টাকার উৎস ও গন্তব্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।