“অর্ধেক দুনিয়া সঙ্গে নিয়ে ডুববে…”-ভারতকে ফের পরমাণু হামলার হুঁশিয়ারি পাক সেনা প্রধানের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতের বিরুদ্ধে পরমাণু হামলার সরাসরি হুমকি দিয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি যে কোনো দেশের সেনাপ্রধান তৃতীয় একটি দেশের বিরুদ্ধে পরমাণু হামলার হুমকি দিয়েছেন বিদেশি ভূখণ্ডে। তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

টাম্পায় ব্যবসায়ী ও অনারারি কনসাল আদনান আসাদের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুনির বলেন, “আমরা একটি পারমাণবিক শক্তিধর জাতি। যদি আমরা মনে করি যে আমরা ডুবে যাচ্ছি, তাহলে আমরা অর্ধেক বিশ্বকে আমাদের সঙ্গে ডুবিয়ে নিয়ে যাব।” তার এই হুমকি ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ‘অস্তিত্বের হুমকি’ অনুভবের উপর নির্ভরশীল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মুনিরের বক্তব্যের মূল লক্ষ্য শুধু পরমাণু হুমকি নয়, তিনি সিন্ধু নদের জল বণ্টন নিয়েও ভারতকে সরাসরি আক্রমণ করেন। ভারতের বাঁধ নির্মাণ নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা ভারতের বাঁধ তৈরি হওয়ার অপেক্ষা করব, এবং যখন এটি তৈরি হয়ে যাবে, তখন আমরা দশটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এটিকে ধ্বংস করে দেব।” তিনি আরও বলেন, “সিন্ধু কোনো ভারতীয় পরিবারের সম্পত্তি নয়। আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের কোনো অভাব নেই, আলহামদুলিল্লাহ।”

মুনির তার বক্তব্যে ভারত ও পাকিস্তানকে দুটি ভিন্ন ধরনের যানবাহনের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি ভারতকে ‘হাইওয়েতে ছুটে চলা মার্সিডিজ’ এবং পাকিস্তানকে ‘নুড়ি ও পাথর ভর্তি ডাম্প ট্রাক’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এই তুলনার মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে ভারত অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেও, পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো সংঘর্ষে লিপ্ত হলে ভারতেরই বেশি ক্ষতি হবে।

ভারতকে ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টাকে কটাক্ষ করে মুনির বলেন, ভারত আসলে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত। কানাডায় শিখ নেতার হত্যা, কাতারে আট ভারতীয় নৌ কর্মকর্তার গ্রেফতার এবং কুলভূষণ যাদবের মামলার মতো ঘটনাগুলোকে তিনি এর ‘অকাট্য প্রমাণ’ হিসেবে দাবি করেন।

মুনিরের এই বিতর্কিত সফরটি ছিল গত দুই মাসে তার দ্বিতীয় মার্কিন সফর। এই সফরে তিনি মার্কিন রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি বিদায়ী সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) কমান্ডার জেনারেল মাইকেল কুরিলার অবসর অনুষ্ঠানে এবং অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এছাড়া, তিনি জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেনের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। মুনিরের এই ধরনের মন্তব্যের ফলে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও খারাপ হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।