টার্গেট সেই ‘বাঙালি’ আবেগ, ফের ধুমধাম করে দুর্গাপুজোর আয়োজন করছে বিজেপি

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা। আর সেই পূজাকেই নিজেদের রাজনৈতিক পালে হাওয়া লাগানোর হাতিয়ার হিসাবে বেছে নিয়েছে বিজেপি। আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে, “বহিরাগত” তকমা ঘোচাতে এবং বাঙালি আবেগকে নিজেদের দিকে টানতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। ২০২১ সালের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই এবার আগেভাগেই ঝাঁপিয়ে পড়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।

তৃণমূল কংগ্রেসের “বাঙালি আবেগ” বনাম বিজেপির “বাঙালি পার্টি” হওয়ার চেষ্টা, এই দ্বন্দ্বে জমে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দান। একদিকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লাগাতার অভিযোগ করে চলেছেন যে দেশজুড়ে বাঙালিদের উপর অত্যাচার চলছে, অন্যদিকে তার পাল্টা দিতে বিজেপি নেতারাও নানা সময়ে বাংলা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে তৃণমূলের সেই অভিযোগের পালে হাওয়া দিয়েছেন। এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝে, বাঙালির মন জয় করতে বিজেপি এবার আশ্রয় নিয়েছে দুর্গাপূজার।

‘জয় মা দুর্গা’ স্লোগানে পুজোয় ফেরা

২০২০ সালে সল্টলেকের ইজেডসিসি-তে জাঁকজমকপূর্ণ দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিল বিজেপি। সেই পূজার ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরপর অবশ্য ২০২১ সালে দায়সারাভাবে পূজার আয়োজন হয় এবং তার পরবর্তী দু’বছর সেভাবে কোনো আয়োজন দেখা যায়নি। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে, ফের একবার বড় করে পূজার আয়োজন করছে রাজ্য বিজেপি। এবারের পূজার স্লোগানও বদলেছে। ‘জয় শ্রীরাম’ এর বদলে শোনা যাচ্ছে ‘জয় মা দুর্গা’ ও ‘জয় মা কালী’ স্লোগান, যা সরাসরি বাঙালি আবেগের সঙ্গে যুক্ত। এমনকি প্রধানমন্ত্রী মোদীর সভাতেও এই নতুন স্লোগান শোনা গিয়েছে।

রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও অন্যান্য নেতৃত্ব ইতিমধ্যে খুঁটিপুজো সেরেছেন। পূজার দায়িত্বে রয়েছেন রাজ্য বিজেপির সাংস্কৃতিক সেলের প্রধান রুদ্রনীল ঘোষ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পূজা আয়োজন কেবলমাত্র ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি বিজেপির রাজনৈতিক কৌশল। বাঙালি ভোটারদের কাছে নিজেদের আরও বেশি গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভোটের আবহে দুর্গাপূজা: ইতিহাস পুনরাবৃত্তি?

২০২০ সালের পূজার সূত্রপাত হয়েছিল তৎকালীন বিজেপি নেতা মুকুল রায় এবং সব্যসাচী দত্তের হাত ধরে, যারা এখন তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে গিয়েছেন। সেই সময়েও বিজেপি চেয়েছিল দুর্গাপূজার মাধ্যমে বাংলার মাটিতে নিজেদের ছাপ ফেলতে। এবারও ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, দুর্গাপূজার মঞ্চ থেকে বাঙালি আবেগকে ছুঁতে না পারলে, “বহিরাগত” তকমা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হবে। তাই, বিজেপির কাছে এই পূজা কেবল একটি উৎসব নয়, বরং এক রাজনৈতিক ময়দান যেখানে বাঙালি মন জয়ের লড়াই চলছে। এখন দেখার বিষয়, এই রাজনৈতিক দুর্গাপূজা কতটা ফলপ্রসূ হয় এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এর প্রভাব কতটা পড়ে।