যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, দুই মাসে দ্বিতীয় সফর, ট্রাম্পের নীরবতা নিয়ে জল্পনা

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির ফের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন। গত দুই মাসের মধ্যে এটি তাঁর দ্বিতীয় মার্কিন সফর। পাকিস্তান আইএসপিআর-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেনারেল মুনির মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার জেনারেল মাইকেল কুরিল্লার অবসরের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় গেছেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও নীরবতা:
মুনিরের এই সফরের আগে তাঁর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজের খবর প্রকাশ্যে আসে। তবে মজার বিষয় হলো, ট্রাম্প সাধারণত অন্য দেশের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের ছবি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে প্রকাশ করলেও, মুনিরের সঙ্গে সেই সাক্ষাতের কোনো ছবি তিনি পোস্ট করেননি। এই বিষয়টিকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ‘অপমান’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কুরিল্লার সঙ্গে সম্পর্ক:
জেনারেল মুনিরের এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান জেনারেল মাইকেল কুরিল্লার অবসরের অনুষ্ঠানে যোগদান। উল্লেখ্য, সম্প্রতি পাকিস্তান জেনারেল কুরিল্লাকে তাদের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘নিশান-ই-ইমতিয়াজ’ (সামরিক) পদকে ভূষিত করেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গভীর করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার জন্য এই সম্মান দেওয়া হয়।
ভারতের প্রতিক্রিয়া:
জেনারেল কুরিল্লা এর আগে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ‘মহান পার্টনার’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন এবং ভারত ও পাকিস্তান উভয়ের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন। এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছিল ভারত। ভারতের বিদেশমন্ত্রক পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের রেকর্ড তুলে ধরে বলেছিল যে সীমান্তপারের সন্ত্রাসকে উপেক্ষা করা যায় না।
এই সফরের আবহে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে। ট্রাম্পের নীরবতা এবং কুরিল্লার সঙ্গে মুনিরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক— এই দুইয়ের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক কী সমীকরণ লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে।