বিপজ্জনক বাড়ির বিরুদ্ধে কঠোর কলকাতা পুরনিগম, দুই মাস পর এফআইআর

বর্ষা এলেই জরাজীর্ণ ও ভগ্নদশা বাড়ির কারণে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে কলকাতা পুরনিগম। বিপজ্জনক বাড়িগুলোর মালিক ও ভাড়াটিয়াদের নোটিশ দেওয়া হবে এবং দুই মাসের মধ্যে মেরামত না করা হলে তাদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করা হবে।

পুরনিগম সূত্রে খবর, শহরে প্রায় ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ বিপজ্জনক বাড়ি ও বাজার ভবন রয়েছে, যার মধ্যে ৪০০টিরও বেশি অতি বিপজ্জনক অবস্থায় আছে। এই বাড়িগুলো মূলত উত্তর, মধ্য এবং পূর্ব কলকাতায় বেশি। বছরের পর বছর ধরে অনেকবার সতর্ক করা হলেও শরিকি জটিলতা, মালিক-ভাড়াটিয়ার বিবাদ এবং আর্থিক সমস্যার কারণে সংস্কারের কাজ আটকে থাকে। এর ফলে এই বাড়িগুলো এখন সাধারণ মানুষ এবং পথচারীদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

এই সমস্যা সমাধানের জন্য কলকাতা পুরনিগম বিল্ডিং আইন সংশোধন করে ‘পজেশন সার্টিফিকেট’ ব্যবস্থা চালু করেছে। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পুরনো বাড়ি ভেঙে নতুন করে তৈরির ক্ষেত্রে মালিক ও ভাড়াটিয়াদের প্রত্যেকের জন্য নকশায় জায়গা নিশ্চিত করতে হবে। তবেই সেই নকশার অনুমোদন দেওয়া হবে। এই সার্টিফিকেট পুরনিগমের বিল্ডিং বিভাগ দেবে, যা মালিক ও ভাড়াটিয়াদের স্বার্থ রক্ষা করবে।

এতসব সুবিধা দেওয়ার পরেও অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বাসিন্দারা এগিয়ে আসছেন না। তাই এবার পুর কর্তৃপক্ষ কঠোর হতে চলেছে। এক পুর আধিকারিক জানিয়েছেন, “নোটিশ দেওয়ার পর দুই মাস সময় দেওয়া হবে। এর মধ্যে মেরামত না করা হলে থানায় এফআইআর করা হবে এবং বিপজ্জনক অংশ ভেঙে ফেলা হবে। কারণ আমরা আর কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি দেখতে চাই না।”