নবান্ন অভিযান, পুলিশের বিরুদ্ধে শুভেন্দুর অভিযোগের পর লালবাজারের পাল্টা দাবি

নবান্ন অভিযানের দিন পুলিশের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের উপর অমানবিক আচরণের অভিযোগ তুলেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছিলেন, “আন্দোলনকারীদের হাতে একটাও লাঠি, ইট-পাথর ছিল না, কিন্তু পুলিশ ইলেকট্রিক শক লাঠি, রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস নিয়ে আক্রমণ করে।” শুভেন্দুর এই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয় এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ তোলা হয়।
কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ ভর্মা জানান, নবান্ন অভিযানের সময় পুলিশেরও বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, একজন কনস্টেবল প্রশান্ত পোদ্দারের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। মনোজ ভর্মা আরও জানান, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। যারা সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করেছে, পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছে এবং আদালত অবমাননা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, পুলিশের বিরুদ্ধে বিজেপি নেত্রী তিলোত্তমার মা-বাবাকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। তিলোত্তমার মা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন যে, পুলিশের আক্রমণে তাঁর হাতের শাখা ভেঙে গেছে এবং মাথায় আঘাত লেগেছে। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশ কমিশনার বলেন, “আমরা এই অভিযোগটিও তদন্ত করছি। সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হবে। যদি সত্যিই এমন কিছু ঘটে থাকে তবে তা দুঃখজনক। নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ এলে অবশ্যই তদন্ত করা হবে।”
শুভেন্দু অধিকারী এবং লালবাজারের এই পরস্পর বিরোধী মন্তব্যে নবান্ন অভিযানের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।