ফের মার্কিন সফরে আসিম মুনির, ভারতকে খোঁচাতে পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে আমেরিকা?

গত দু’মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন সফরে গেলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। পাকিস্তান আইএসপিআরের পক্ষ থেকে এক বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এবারের সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার জেনারেল মাইকেল কুরিল্লার অবসরের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া।

এর আগে, প্রথম মার্কিন সফরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও সেই সাক্ষাতের কোনো ছবি প্রকাশ্যে আসেনি, যা পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে এক ধরনের ‘অপমান’ হিসেবে দেখা হয়েছে। ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা এবং ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের আবহে ট্রাম্প-মুনিরের এই মধ্যাহ্নভোজ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (ইউএস সেন্টকম) প্রধান জেনারেল মাইকেল কুরিল্লাকে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘নিশান-ই-ইমতিয়াজ’ (সামরিক) পদকে ভূষিত করা হয়েছে। ইসলামাবাদে এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এই পুরস্কার তাঁর হাতে তুলে দেন। আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়।

তবে জেনারেল কুরিল্লার বক্তব্য নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছিল। গত জুনে তিনি পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ‘মহান পার্টনার’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, ভারত ও পাকিস্তান উভয়ের সঙ্গেই সম্পর্ক রাখা দরকার এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে পাকিস্তানের সঙ্গে থাকা উচিত নয়, এটা কোনো বাইনারি বিকল্প নয়।

জেনারেল কুরিল্লার এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছিল, পাকিস্তানের রেকর্ড সবার সামনে। মুম্বই হামলা এবং ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেওয়ার মতো ঘটনা সবার মনে আছে। ভারতের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে সীমান্তপারের সন্ত্রাসকে উপেক্ষা করা যাবে না।