মাসে ১ লাখ টাকা পেনশন শুনে চমকে গেলেন…? নতুন এই প্রকল্পের খুঁটিনাটি জানুন বিস্তারে

অবসর জীবনের আর্থিক নিরাপত্তা এখন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির এই সময়ে যদি আপনি অবসর গ্রহণের পর প্রতি মাসে ১ লক্ষ টাকা স্থায়ী পেনশন পেতে চান, তবে ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS) হতে পারে একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প। সঠিক পরিকল্পনা এবং সময়মতো বিনিয়োগ শুরু করলে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।
৪০ বছর বয়সে মাসিক ১ লক্ষ টাকা পেনশন পেতে কত বিনিয়োগ প্রয়োজন?
যদি একজন ব্যক্তি ৪০ বছর বয়সে NPS-এ বিনিয়োগ শুরু করেন এবং ২০ বছর ধরে নিয়মিত বিনিয়োগ চালিয়ে যান, তবে তাকে প্রতি মাসে ৬৫,০০০ টাকা করে বিনিয়োগ করতে হবে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ২০ বছর পর প্রায় ৪.৯৭ কোটি টাকার একটি কর্পাস তৈরি হবে, যদি গড় বার্ষিক রিটার্ন ১০% হয়।
বিনিয়োগের হিসাব
মোট কর্পাস: ২০ বছরে ৬৫,০০০ টাকা মাসিক বিনিয়োগ এবং ১০% গড় বার্ষিক রিটার্ন ধরে আনুমানিক ৪.৯৭ কোটি টাকা।
এককালীন উত্তোলন: NPS-এর নিয়ম অনুযায়ী, এই কর্পাসের ৬০% (২.৯৮ কোটি টাকা) করমুক্তভাবে এককালীন তুলে নেওয়া যাবে।
অ্যানুইটি: বাকি ৪০% (১.৯৯ কোটি টাকা) দিয়ে অ্যানুইটি কিনতে হবে। যদি অ্যানুইটি থেকে বার্ষিক ৬% রিটার্ন পাওয়া যায়, তাহলে আজীবনের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ১ লক্ষ টাকা পেনশন পাওয়া সম্ভব।
NPS-এর মূল সুবিধা
কম খরচের স্কিম: অন্যান্য বিনিয়োগের তুলনায় NPS-এর ফান্ড ম্যানেজমেন্ট ফি অনেক কম।
ট্যাক্স ছাড়: এটি আয়কর আইনের ধারা ৮০সিসিডি(১) এবং ৮০সিসিডি(১বি) অনুযায়ী মোট ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কর ছাড়ের সুবিধা দেয়।
স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা: বিনিয়োগকারী নিজেই তার অ্যাসেট অ্যালোকেশন (ইকুইটি, কর্পোরেট বন্ড এবং সরকারি সিকিউরিটিজ) নির্ধারণ করতে পারেন।
সুরক্ষা: পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (PFRDA) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় এটি একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বিকল্প।
কাদের জন্য NPS উপযুক্ত?
যারা দীর্ঘমেয়াদী অবসর পরিকল্পনা করছেন, কর ছাড় পেতে চান এবং তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও স্থিতিশীল রিটার্ন খুঁজছেন, তাদের জন্য NPS একটি ভালো বিকল্প। তবে, যেকোনো বিনিয়োগের আগে একজন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য।