বর্ধমান থেকে অপহরণের পর দু’বার বিক্রি, অবশেষে রাজস্থান থেকে উদ্ধার নাবালিকা! পুলিশের জালে ৫

গত বছর বর্ধমান থেকে নিখোঁজ হওয়া এক নাবালিকাকে এক বছর পর রাজস্থানের পালি জেলা থেকে উদ্ধার করেছে সিবিআই। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য— নাবালিকাটিকে দুবার বিক্রি করা হয়েছিল এবং একটি মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণও পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত এবং তদন্ত
২০২৩ সালের ৯ আগস্ট মেয়েটি টিউশন পড়তে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়। স্থানীয় পুলিশ এবং পরে সিআইডি-র তদন্তে কোনো সুরাহা না হওয়ায় মেয়েটির মা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। হাইকোর্টের নির্দেশে ২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সিবিআই এই মামলার তদন্তভার নেয়। কল ডিটেল এবং গোপন সূত্রের ভিত্তিতে সিবিআই জানতে পারে যে মেয়েটিকে রাজস্থানে পাচার করা হয়েছে। এরপরই শুক্রবার পালি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয় এবং পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মানবপাচারের অভিযোগ
সিবিআই জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মেয়েটি নিখোঁজ হওয়ার সময় নাবালিকা ছিল। কিন্তু বিয়ের জন্য তৈরি করা হলফনামায় তাকে প্রাপ্তবয়স্ক দেখানো হয়। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এটি একটি বৃহত্তর মানবপাচার চক্রের অংশ হতে পারে, যেখানে নাবালিকাদের অপহরণ করে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ভরৎ কুমার, জগদীশ কুমার, মেনা দাপুবেন, রতা রাম এবং দিলীপ কুমার।
অপরাধের পরিসংখ্যান
জাতীয় অপরাধ নথি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দেশে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে। ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩,৭৮,২৩৬, যা ২০২২ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৪,৪৫,২৫৬। এই পরিসংখ্যান প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। মানবপাচারের মতো অপরাধও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এই ঘটনাগুলো সমাজের দুর্বল অংশ, বিশেষ করে নাবালিকাদের নিরাপত্তাহীনতাকে তুলে ধরছে।