প্যারিসের শেষ খবরের কাগজওয়ালা আলি আকবরকে সম্মান জানাচ্ছে ফ্রান্স

টিভি, ইন্টারনেট আর স্মার্টফোনের যুগেও প্যারিসের রাস্তায় হাতে খবরের কাগজ বিক্রি করে চলেছেন ৭৩ বছর বয়সী আলি আকবর। পাকিস্তানের রাওয়ালপিণ্ডি থেকে ১৯৭৩ সালে ২১ বছর বয়সে প্যারিসে এসে এই কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। টানা ৫২ বছর ধরে তিনি প্যারিসের ঐতিহ্যকে একাই ধরে রেখেছেন। তার এই অবিচলতা এবং নিষ্ঠার জন্য ফ্রান্স সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মান, ন্যাশনাল অর্ডার অফ মেরিট, প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মানুষের কাগজ পড়া কমে যাওয়ায় আলিকে এখন আরও বেশি সময় ধরে এবং আরও বেশি এলাকায় ঘুরে ঘুরে কাগজ বিক্রি করতে হয়। তবে এই পরিশ্রম তিনি হাসিমুখে মেনে নিয়েছেন। দীর্ঘ ৫২ বছর ফ্রান্সে থাকার কারণে তিনি ফরাসি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে ও পড়তে পারেন। রাজনীতি থেকে খেলা, দেশ-বিদেশের সমস্ত খবর তার নখদর্পণে। প্রতিদিন তিনি কাগজ বিক্রি করার আগে নিজেই সব খবর পড়ে নেন এবং ক্রেতাদের বলে দেন কোন খবরটি তাদের পড়া উচিত। তার এই নিজস্ব স্টাইল এবং রাজনৈতিক কৌতুক তাকে প্যারিসের বাসিন্দাদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। অনেকেই সকালে তার কাছ থেকে কাগজ কিনে গর্বের সঙ্গে অফিসে গিয়ে বলেন, “আজ কাগজটা আলির থেকে কিনলাম।”
ফ্রান্সের জনপ্রিয় পত্রিকা শার্লি এবদো এবং ল্য মঁদ, যেগুলো আলি বিক্রি করেন, তারাও তাকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এক সাক্ষাৎকারে আলি বলেছেন, “মোবাইল বা ট্যাবলেটে কাগজ পড়া আমার পছন্দ নয়। সোশ্যাল মিডিয়ার খবরেও ভরসা করি না। খবরের জন্য নিজেই কাগজ পড়ি এবং সেটাই মানুষের হাতে তুলে দিই। যতদিন শরীরে শক্তি থাকবে ততদিন এই কাজটাই চালিয়ে যাব।”
রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর এই সম্মান প্রদানের সিদ্ধান্তকে অনেকে রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। বিশেষত, যখন ফ্রান্সে অভিবাসন বিরোধী ফার-রাইটদের প্রভাব বাড়ছে, তখন একজন অভিবাসীকে এমন সম্মান প্রদান করে ম্যাক্রোঁ একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন। ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানো ফুটবলার জিনেদিন জিদান এবং বর্তমান তারকা কিলিয়ান এমবাপে, দুজনেই অভিবাসী পরিবারের সন্তান। আলি আকবরের এই সম্মান সেই একই বার্তাকে শক্তিশালী করছে।