এসআইআর নিয়ে রাজ্য-নির্বাচন কমিশন সংঘাত, চিঠি পাঠালেন স্বরাষ্ট্রসচিব

বিহারের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও এসআইআর (Special Intensive Revision)-এর প্রস্তুতি নিয়ে রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে তীব্র সংঘাত শুরু হয়েছে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব সরাসরি নির্বাচন কমিশনের সিইও-কে চিঠি পাঠিয়ে এসআইআর-এর পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। রাজ্য সরকারের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা ছাড়াই কমিশন এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক কমিশনকে জানান যে রাজ্য এসআইআর-এর জন্য প্রস্তুত। এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করার জন্যই স্বরাষ্ট্রসচিব এই চিঠি পাঠান। চিঠিতে এসআইআর-এর পদ্ধতি, সময়সীমা এবং এর বিস্তারিত পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে, নির্বাচন কমিশন এর আগে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে বারুইপুর পূর্ব ও ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের চারজন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার এবং সহকারী ইআরও-কে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছিল। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করারও নির্দেশ ছিল। একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধেও একই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়। এই নির্দেশ এখনও কার্যকর না হওয়ায় কমিশন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে নোটিশ পাঠিয়ে সোমবারের মধ্যে জবাব চেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রসচিবের পাল্টা চিঠি নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বাংলায় এসআইআর চালু করতে দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করা হবে। তিনি আরও বলেন, যদি ভোটার তালিকায় কোনো গরমিল থাকে, তাহলে ২০২৪ সালের নির্বাচিত সরকারও অবৈধ হয়ে যাবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানিয়েছেন, মৃত বা নিখোঁজ ভোটার ছাড়া কারও নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না।
নির্বাচন কমিশন দেশজুড়ে, পশ্চিমবঙ্গসহ সব রাজ্যে, মৃত বা নিখোঁজ ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে নতুন ভোটার তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও কমিশনের মধ্যে এই টানাপোড়েন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।