ইসরায়েলের গাজা দখল ঠেকাতে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যের ডাক তুরস্কের, পাশে দাঁড়ালো মিশর

ইসরায়েলের গাজা দখলের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোকে একজোট হয়ে বৈশ্বিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন। মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আবদেলাত্তির সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ফিদান বলেন, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ তাদের ‘গণহত্যামূলক ও সম্প্রসারণবাদী নীতির’ নতুন ধাপ।
ফিদান জানান, ইসরায়েলের এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার জন্য ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনিদের অভুক্ত রেখে তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করা এবং গাজাকে স্থায়ীভাবে দখল করাই ইসরায়েলের নীতি। ইসরায়েলকে সমর্থন করার মতো কোনো গ্রহণযোগ্য অজুহাত নেই।” ইসরায়েল অবশ্য গাজায় গণহত্যা বা অনাহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলেছে যে হামাস আত্মসমর্পণ করলেই যুদ্ধ শেষ হতে পারে।
মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আবদেলাত্তিও ইসরায়েলের এই পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “গাজায় যা ঘটছে, তা কেবল ফিলিস্তিনিদের বা প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য নয়, এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এক পরিস্থিতি। ইসরায়েলের এই পরিকল্পনা অগ্রহণযোগ্য।” তিনি আরও বলেন, গাজা নিয়ে তুরস্ক ও মিসরের মধ্যে পূর্ণ সমন্বয় রয়েছে এবং ওআইসি’র মন্ত্রিপরিষদ কমিটি ইসরায়েলের পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে।
ওআইসির মন্ত্রিপরিষদ কমিটি তাদের বিবৃতিতে ইসরায়েলের এই পরিকল্পনাকে “বিপজ্জনক ও অগ্রহণযোগ্য উসকানি” এবং “আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন” বলে আখ্যায়িত করেছে। তারা অবিলম্বে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। একইসঙ্গে, বিশ্বের পরাশক্তি এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে গাজা সংকটে তাদের আইনি ও মানবিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে মিসর, কাতার এবং যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।