টানা বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি, জলবন্দি সেন্ট্রাল ডুয়ার্স,

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের জনজীবন বিপর্যস্ত। বিশেষত ডুয়ার্স এবং পাহাড়ি অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিস্তা, কালানদি, পানা, বাসরা, কালিঝোরা সহ একাধিক পাহাড়ি নদীর জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি ব্লকের সেন্ট্রাল ডুয়ার্স চা-বাগান এবং পার্শ্ববর্তী এলাকা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সেন্ট্রাল ডুয়ার্স এলাকাটি মূলত পানা, বাসরা ও কালিঝোরা নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত। সাধারণত এই নদীগুলো শুষ্ক থাকে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা হেঁটে পারাপার করেন। কিন্তু এবার ভুটান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে তিনটি নদীরই জলস্তর ভয়াবহভাবে বেড়েছে। পানা নদীতে কোনো সেতু না থাকায় পারাপার একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। বাসরা ও কালিঝোরা নদীর জল উপচে রাস্তায় চলে আসায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এমন জলাবদ্ধ পরিস্থিতি বহুদিন পর দেখা গেল। এর ফলে স্কুল, বাজার, হাসপাতাল এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক গ্রামে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছানোও সম্ভব হচ্ছে না। গ্রামবাসীরা পানা নদীতে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য আবারও দাবি তুলেছেন।

এই বিপর্যয়ের মধ্যেই ঘটেছে এক মর্মান্তিক ঘটনা। বাসরা নদীতে ডুবে মেচপাড়া এলাকার বাসিন্দা পৌলচ মিঞ্জের নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে স্থানীয়রা নদীতে তার দেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। কালচিনি থানার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মৃত যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং সম্ভবত নদীতে নেমে স্রোতের তোড়ে ভেসে যান। পুলিশ ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে।

টানা বৃষ্টি এবং পাহাড়ি নদীর জলবৃদ্ধির ফলে উত্তরবঙ্গের এই অঞ্চলের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।