মেসেঞ্জার-হোয়াটসঅ্যাপের যুগে ফিরল চিঠি, মহকুমা শাসককে লিখল কচিকাঁচারা

এক সময় বাঙালির জীবনে চিঠির যে আবেগ জড়িয়ে ছিল, সেই নস্টালজিয়া ফিরিয়ে আনতে ঘাটাল বিদ্যাসাগর বইমেলায় এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার বর্ণপরিচয় মুক্তমঞ্চে আয়োজিত হয় চিঠি লেখার প্রতিযোগিতা, যেখানে স্কুল পড়ুয়া কচিকাঁচারা অংশ নেয়। এই প্রতিযোগিতার বিশেষত্ব ছিল, চিঠিগুলো লেখা হয়েছে সরাসরি মহকুমা শাসককে। চিঠির বিষয় ছিল তাদের এলাকার সমস্যা বা দাবিদাওয়া।
আজকের যুগে যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা মেসেজ এবং হোয়াটসঅ্যাপে সীমাবদ্ধ, সেখানে এই ধরনের প্রতিযোগিতা এক নতুন মাত্রা এনেছে। মিলন জানা, ঘাটাল বিদ্যাসাগর বইমেলার সাংস্কৃতিক সম্পাদক, বলেন, “আজকের প্রজন্ম খুব সহজে সবকিছু পায়। এর ফলে আবেগ, অনুভূতি এবং আন্তরিকতা ম্লান হয়ে যাচ্ছে। স্মার্টফোনের যুগে এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মধ্যে আবার সেই মানবিক গুণাবলি ফিরিয়ে আনতেই আমাদের এই প্রচেষ্টা।”
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া খুদে পড়ুয়ারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের এলাকার সমস্যা তুলে ধরেছে। কেউ লিখেছে একটি সুইমিং পুল বা সাঁতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরির আর্জি জানিয়ে, কেউ আবর্জনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে মহকুমা শাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, আবার অনেকে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছে। সবচেয়ে মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো বিষয়টি হলো, প্রায় সব শিশুই তাদের চিঠি শুরু করেছে “পত্রের প্রথমে আপনাকে প্রণাম জানাই স্যর” এই সম্বোধন দিয়ে।
ঘাটালের মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “এখনকার অনেক বাচ্চাই হয়তো জানে না যে ইনল্যান্ড লেটার বা পোস্টকার্ড কী জিনিস। আমাদের সময়ে এই চিঠিগুলো ছিল আবেগের অংশ। কত সাহিত্য এই চিঠিপত্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। আমরা চাই এই চিঠি লেখার গুরুত্ব এখনকার প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে পড়ুক। এই ধরনের প্রতিযোগিতা আরও বেশি করে হোক, এটাই আমাদের কাম্য।”
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঘাটালের বইমেলা কর্তৃপক্ষ কেবল বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, একটি হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে, যা নতুন প্রজন্মের মধ্যে আবেগ ও মূল্যবোধ জাগাতে সাহায্য করবে।