শুভেন্দুর পর এবার উদয়ন গুহর বিরুদ্ধে গর্ভবতী মহিলাকে মারধরের অভিযোগ, উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা

পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এবার নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হলো। রাজ্যের মন্ত্রী উদয়ন গুহর বিরুদ্ধে এক গর্ভবতী মহিলাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধেও এমন একটি অভিযোগ এসেছিল। এই ঘটনায় কোচবিহারের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত কোচবিহারের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির সময়। অভিযোগকারী গর্ভবতী মহিলা জানান, তিনি একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক। কিন্তু মন্ত্রীর সমর্থকরা তাকে জোর করে তাদের মিছিলে যোগ দিতে চাপ দেয়। তিনি রাজি না হওয়ায় মন্ত্রীর বাহিনীর কয়েকজন তাকে মারধর করে এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। অভিযোগকারী বলেন, “আমি বারবার তাদের বলেছি যে আমি অন্তঃসত্ত্বা, কিন্তু তারা কোনো কথা শোনেনি।”

এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকার মানুষ প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। অনেকেই এই ধরনের রাজনৈতিক হিংসার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, রাজনীতির নামে এমন অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না, বিশেষ করে যখন একজন গর্ভবতী মহিলার ওপর আক্রমণ করা হয়।

বিরোধী দলগুলি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে উদয়ন গুহর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, একজন মন্ত্রীর বাহিনীর এমন আচরণ রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার অবনতিরই প্রতিফলন। তারা এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তবে এই অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী উদয়ন গুহর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করবে এবং আগামী দিনে এর প্রভাব দেখা যেতে পারে।