রেলকর্মীর হাত আটকে গেলো যন্ত্রাংশে? প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে থাকলো লোকাল ট্রেন

কর্মব্যস্ত সকালে বর্ধমান-হাওড়া মেন লাইনে বড়সড় বিপত্তি ঘটল। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘ এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে মেমারি স্টেশনে আটকে ছিল একটি ডাউন বর্ধমান-হাওড়া লোকাল। যদিও এই ঘটনাকে ঘিরে রেল কর্তৃপক্ষের বয়ান এবং যাত্রীদের বয়ানের মধ্যে ভিন্নতা দেখা গেছে।

যাত্রী সূত্রে খবর, ট্রেনটি যখন মেমারি স্টেশনে দাঁড়িয়েছিল, তখন একজন রেলকর্মী ট্রেনের ইঞ্জিন পরীক্ষা করছিলেন। সেই সময় ইঞ্জিনের একটি যন্ত্রাংশে তার হাত আটকে যায়। এই রেলকর্মীকে উদ্ধার করতে অন্য কর্মীরা এগিয়ে আসায় ট্রেনটি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে স্টেশনেই দাঁড়িয়ে থাকে। ওই ট্রেনের যাত্রী উদয় মণ্ডল বলেন, “ট্রেনের যান্ত্রিক ত্রুটি ঠিক করতে গিয়ে ওই রেলকর্মীর হাত ইঞ্জিনের একটি যন্ত্রাংশে ঢুকে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পরে তার হাত বের করা হয়।”

তবে পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত এই বিষয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই ডাউন বর্ধমান-হাওড়া লোকালটি মেমারি স্টেশনে সকাল ৭টা ৩৫ মিনিট থেকে আটকে ছিল।” তার দাবি, সকাল ৯টা ১৩ মিনিট নাগাদ প্রযুক্তিগত সমস্যা মিটে গেলে ট্রেনটি পুনরায় হাওড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “কোনও রেলকর্মীর হাত আটকে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি।”

ঘটনাটি সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ ঘটে। ট্রেনের ইঞ্জিনের কাছে এক রেলকর্মী যান্ত্রিক সমস্যা পরীক্ষা করছিলেন। সেই সময় ইঞ্জিনের একটি যন্ত্রাংশ পড়ে গেলে তা তুলতে গিয়ে তার হাত আটকে যায় বলে যাত্রীদের পক্ষ থেকে জানা গেছে। এর জেরে যাত্রীদের মধ্যে একপ্রকার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে যাত্রীদের অন্য ট্রেনে গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

যদিও রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে রেলকর্মীর হাত আটকে যাওয়ার ঘটনাটি অস্বীকার করা হলেও, যাত্রীদের বয়ানে এই ঘটনাটি স্পষ্ট। এই ঘটনায় সকালের দিকে কর্মব্যস্ত যাত্রীদের ব্যাপক দুর্ভোগের শিকার হতে হয় এবং লোকাল ট্রেনের সময়সূচিতেও প্রভাব পড়ে।