ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ভেঙে যাওয়ার কারণ কী? জেনেনিন ভিতরের খবর

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একটি বড় বাণিজ্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেলেও শেষ মুহূর্তে তা ভেঙে গেছে। পাঁচ দফা আলোচনার পর ভারতীয় কর্মকর্তারা চুক্তি বাস্তবায়নের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন এবং এমনকি ১লা আগস্টের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণারও প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি, এবং এর বদলে আমেরিকা ভারতের পণ্যের উপর ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।
কোথায় বাধা পড়ল?
রয়টার্স-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, ভুল হিসাব এবং বিভ্রান্তির কারণে আলোচনা ভেঙে গেছে। যদিও কারিগরিভাবে বেশিরভাগ বিষয়েই উভয় পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছিল।
ভারতের নমনীয়তা: বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের ওয়াশিংটন সফর এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্সের দিল্লি সফরের পর ভারত চুক্তি বাস্তবায়নে আরও নমনীয় হয়েছিল। ভারত আমেরিকা থেকে আমদানি করা শিল্পপণ্যের উপর শূন্য শুল্ক আরোপ করতে প্রস্তুত ছিল, যা আমেরিকার মোট রপ্তানির প্রায় ৪০%।
ট্রাম্পের আরও ছাড়ের দাবি: ভারত আমেরিকান গাড়ি এবং পানীয়ের উপর শুল্ক ধাপে ধাপে কমানো এবং জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সামগ্রী বেশি পরিমাণে আমদানি করতে রাজি হয়েছিল। তবে ওয়াশিংটনে পঞ্চম দফা আলোচনার পর ভারত যখন মনে করছিল যে আমেরিকা কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের উপর শুল্ক মওকুফের ব্যাপারে তাদের আপত্তি মেনে নেবে, তখন ট্রাম্প আরও বেশি ছাড়ের দাবি করেন।
অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং ভুল হিসাব
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ওয়াশিংটন সফরের পর উভয় দেশই চলতি বছরের শেষে চুক্তি স্বাক্ষর এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার ব্যাপারে একমত হয়েছিল। ট্রাম্পের ‘বড় চুক্তি হবে’ মন্তব্য ভারতকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। এর পর ভারত কৃষি ও দুগ্ধ খাতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে। কিন্তু আমেরিকা যখন দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে, তখন ভারত বুঝতে পারে যে ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। দক্ষিণ কোরিয়া বিশাল বিনিয়োগ, জ্বালানি আমদানি এবং চাল ও মাংসের উপর ছাড় দিয়ে ২৫%-এর বদলে ১৫% শুল্ক পেয়েছে।
কূটনীতিতে ভুল পদক্ষেপ
মার্কিন ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ মার্ক লিনস্কট জানিয়েছেন যে, এক পর্যায়ে দু’পক্ষই চুক্তির খুব কাছাকাছি ছিল। তবে, ট্রাম্পের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের মধ্যস্থতাকারী হওয়ার বারবার মন্তব্যের কারণে আলোচনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে ভারত সরকার কৃষি ও দুগ্ধ খাতে আরও ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রগুলো পুনরায় পরীক্ষা করছে। চলতি মাসেই একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল দিল্লিতে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং উভয় পক্ষই এখনও একটি অনুকূল চুক্তির আশা করছে।