“দেশে আক্রান্ত হচ্ছেন বাঙালিরা”-সংসদ চত্বরে অভিষেকের নেতৃত্বে প্রতিবাদ বিরোধীদের

বাংলা ভাষা এবং ভোট চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সংসদ চত্বরে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ দেখাল তৃণমূল কংগ্রেস। এই বিক্ষোভে তৃণমূলের পাশাপাশি ইন্ডিয়া জোটের অন্য শরিক দল, যেমন কংগ্রেসের সাংসদরাও যোগ দেন। বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিক্ষোভ চলাকালীন তৃণমূল সাংসদদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যেখানে লেখা ছিল ‘বাংলার অপমান মানছি না, মানব না’। বাংলা ভাষায় কথা বলায় বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের ওপর আক্রমণের অভিযোগ তুলে এই প্রতিবাদ জানানো হয়। এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য একটি পোস্টে বাংলা ভাষাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ বলে দাবি করেন এবং বলেন, ‘বাংলা বলে কোনো ভাষাই নেই।’ তৃণমূলের সাংসদরা এই মন্তব্যকে জাতীয় সঙ্গীতের অপমান এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার সমান বলে আখ্যা দিয়েছেন।

একই সঙ্গে, ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে ভোট চুরির অভিযোগও তোলা হয়। তৃণমূল সাংসদদের হাতে ‘ভোট চুরি’ লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল। তারা ‘নির্বাচন কমিশন হায় হায়’ এবং ‘নির্বাচন কমিশন লজ্জা’ বলে স্লোগান দেন, যেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও গলা মেলান। এছাড়াও বিহারে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রতিবাদ করা হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই এই SIR-কে ‘সাইলেন্স ইনভিজিবল রিগিং’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে রাহুল গান্ধীর নৈশভোজে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মহারাষ্ট্র-সহ বিভিন্ন রাজ্যে ভোট চুরির অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, সেই আলোচনায় বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের ওপর আক্রমণের বিষয়টি নিয়েও কথা হয়।

বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন দোলা সেন, শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া-সহ একাধিক তৃণমূল সাংসদ। এই সম্মিলিত প্রতিবাদে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একযোগে সুর চড়িয়ে বিরোধী দলগুলি তাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তুলে ধরেছে।