কল্যাণের সঙ্গে একান্ত বৈঠক অভিষেকের, দুই নেতার মধ্যেকার বরফ কি গলল?

গত কয়েক দিন ধরে তৃণমূলের অন্দরে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মহুয়া মৈত্রের মধ্যে যে সংঘাত চলছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকের পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে, দুই নেতার মধ্যেকার বরফ কি তাহলে গলল?
কী নিয়ে বিতর্ক?
সম্প্রতি মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। এই নিয়ে গত সোমবার (৪ আগস্ট) দলের সাংসদদের বৈঠকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং স্পষ্ট জানান যে দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ বরদাস্ত করা হবে না। এরপরই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের পদ থেকে ইস্তফা দেন। ইস্তফার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করতে বলেন। কিন্তু এরই মধ্যে দলের পক্ষ থেকে তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করে কাকলি ঘোষদস্তিদারকে নতুন মুখ্য সচেতক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।
বৈঠকে কী আলোচনা হলো?
বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে দু’জনের কেউই বিস্তারিত কিছু জানাননি। বৈঠকের পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু বলেন, “খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।” তবে তাঁর ক্ষোভ কমেছে কিনা, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন দলনেত্রী এবং অভিষেকের নির্দেশের পরেও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পদত্যাগপত্র ফিরিয়ে নিতে রাজি হননি। এই বৈঠকের পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে আর কোনও ক্ষোভের কথা শোনা যায়নি, যা দেখে অনেকেই মনে করছেন, হয়তো দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের তিক্ততা অনেকটাই কমেছে।