‘বিশ্বাস উঠে গেছে’- সিবিআই তদন্তে হতাশ নির্যাতিতার পরিবার! দিল্লিতে তিলোত্তমার মা-বাবা

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর পরিবার এখনো ন্যায় বিচার পায়নি। বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতায় ক্ষুব্ধ হয়ে শেষ পর্যন্ত নির্যাতিতার বাবা-মা দিল্লির পথে রওনা দেন। সোমবার তাঁরা সিবিআই অধিকর্তা প্রবীণ সূদ এবং সংস্থার অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর পাশাপাশি তাঁরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও দেখা করার চেষ্টা করছেন।
সিবিআই তদন্তে অগ্রগতি নেই, অভিযোগ পরিবারের
সিবিআই এই মামলার তদন্তের জন্য শিয়ালদহ আদালতে পাঁচটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে, যার সর্বশেষটি জমা দেওয়া হয় ১৬ জুলাই। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, তদন্তে কোনো গঠনমূলক অগ্রগতি নেই। কলকাতা পুলিশের কাছ থেকে মামলাটি হাতে নেওয়ার পরও সিবিআই মূলত আগের তদন্তেরই পুনরাবৃত্তি করছে বলে দাবি করেছেন নির্যাতিতার বাবা।
‘আস্থা উঠে গেছে’, সিবিআই সদর দফতরে বললেন বাবা
হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আজ সিবিআই সদর দফতরে এসে শুধু সময় নষ্ট করলাম। কলকাতা পুলিশ ও সিবিআই—দুই সংস্থার ওপর থেকেই আমাদের আস্থা উঠে গেছে। কেন তারা এমন করছে, জানি না। হতে পারে রাজনৈতিক চাপ অথবা অন্য কোনো অজানা কারণে তদন্ত দুর্বল করা হচ্ছে। এরা শুধু কলকাতা পুলিশের কথারই পুনরাবৃত্তি করছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করা হয়েছিল। “সেদিন শ্মশানে তিনটি দেহ ছিল, অথচ আমাদের মেয়ের দেহটিই প্রথম দাহ করা হলো। এত তাড়া কেন? সব প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। এখন সিবিআই চায় আমরা প্রমাণ দিই! এটাই কি আমাদের কাজ?”
পরিবারের দাবি: আরও অনেকে জড়িত ছিল
পরিবারের দাবি, এই ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত ছিল, যাদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন তাঁরা কেবল বিচার ব্যবস্থার ওপরই ভরসা রাখছেন। এর আগে সুপ্রিম কোর্টও এই মামলার তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। পরিবার বলছে, “তদন্ত চলছে” — এই কথাটা যথেষ্ট নয়।
৯ই আগস্ট নবান্ন অভিযানের ডাক
আগামী ৯ই আগস্ট, তাঁদের মেয়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবার ‘নবান্ন অভিযান’-এর ডাক দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া রাজ্যের সব রাজনৈতিক দলকে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পাশে থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।