নৈশভোজে তৃণমূলের অভিষেক, লোকসভার পর প্রথম ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক

লোকসভা নির্বাচনের পর প্রথমবার এক ছাদের নিচে বসতে চলেছে ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ নেতারা। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ডাকা নৈশভোজে যোগ দিতে চলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠককে বিরোধী ঐক্যের পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

লোকসভা নির্বাচনের আগে “মোদি হটাও, দেশ বাঁচাও” স্লোগান নিয়ে ইন্ডিয়া জোট গঠিত হলেও, নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বিশেষ করে কংগ্রেসের ‘অহংকারী’ মনোভাব নিয়ে বিভিন্ন দলের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এর মধ্যেও কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে সম্পর্কের দূরত্ব ছিল স্পষ্ট। তবে, এই নৈশভোজে অভিষেকের উপস্থিতি দুই দলের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলাতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন এবং কেন্দ্র সরকারের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রকল্প নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাভাষী মানুষদের লক্ষ্য করে কেন্দ্রের এই ‘ভুয়ো ভোটার’ অভিযানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আন্দোলন শুরু করেছেন। মনে করা হচ্ছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে এই ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।

জানা গেছে, এই নৈশভোজে উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থী নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হতে পারে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এবং বিরোধীরা চাইছে বিজেপির বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে একজন প্রার্থী দাঁড় করাতে। এছাড়াও, সরকার পক্ষের ‘ভেদক প্রার্থী’ চালের মোকাবিলায় একটি ঐক্যবদ্ধ রণনীতি তৈরি করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

এই বৈঠকে সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব সহ এনসিপি, শিবসেনা এবং ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। অসুস্থতার কারণে ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিনের উপস্থিতি নিশ্চিত নয়। এই বৈঠকের পরদিন অর্থাৎ শুক্রবার বিরোধী দলগুলো নির্বাচন কমিশন দফতরে যৌথভাবে মিছিল করবে।